বাংলাদেশ

১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক তিন দিনের রিমান্ডে

May 7, 2026
3 months ago
By SAJ
১১ বছরের শিশু অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক তিন দিনের রিমান্ডে

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় করা মামলার আসামি মাদ্রাসার শিক্ষকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম এ বিষয়ে আদেশ দেন।

বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি (পিপি) নূরুল কবির। তিনি বলেন, ‘আজ বেলা ১১টার দিকে আলোচিত ওই মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষককে আদালতে হাজির করা হয়। আমরা আদালতের কাছে প্রার্থনা জানাই, ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। তারপর বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

নূরুল কবির আরও বলেন, ‘আদালতের কাছে আমরা দাবি জানিয়েছি, বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার করা হচ্ছে। মেয়েটির চিকিৎসা করা একজন নারী চিকিৎসককে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব বিষয় যাতে বন্ধ হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। এর আগে ভিকটিম নিজে আদালতে এসে ২২ ধারায় জবানবন্দিতে মামলার আসামিকে ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত করে। মেয়েটির বাচ্চা যখন ভূমিষ্ঠ হবে, তখন যেন ডিএনএ পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়েছেন।’

শিশুটির আত্মীয়স্বজন, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। পরে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন। গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ২৩ এপ্রিল থানায় মামলা করেন। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সোনামপুর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে র‍্যাবের একটি দল আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক বিভিন্ন হুমকি পাচ্ছেন এবং তাঁকে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক নানাভাবে হুমকি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে পুলিশ অবগত আছে। তাঁর নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।