প্রযুক্তি

১৫ বছর বয়সেই কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন

January 26, 2026
6 months ago
By SAJ
১৫ বছর বয়সেই কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন

যে বয়সে অধিকাংশ কিশোর স্কুলের পড়াশোনা আর খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত, তখন বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব অ্যান্টওয়ার্প থেকে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে (ফিজিকস) পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছে ১৫ বছর বয়সী লরেন্ট সাইমনস। শুধু পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনই নয়, বর্তমানে মানুষের আয়ু বৃদ্ধির লক্ষ্যে জটিল এক গবেষণা শুরু করেছে বেলজিয়ামের বাসিন্দা এই কিশোর। লরেন্টের মেধার পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল শৈশবেই। মাত্র ৮ বছর বয়সে হাইস্কুল শেষ করার পর ১২ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে লরেন্ট। এরপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর বোসন কণা ও ব্ল্যাকহোল নিয়ে গবেষণাও করেছে সে।

গবেষকদের মতে, লরেন্টের আইকিউ অন্তত ১৪৫। তার রয়েছে ফটোগ্রাফিক মেমোরি। ফলে কোনো কিছু একবার দেখলে বা পড়লে ছবির মতো মনে রাখতে পারে। লরেন্টের পিএইচডি থিসিসের শিরোনাম ছিল বোস পোলারন নিয়ে। মূলত অতিশীতল তাপমাত্রায় কণার আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছে সে। এ গবেষণার মূলে রয়েছে উপমহাদেশের কিংবদন্তি বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর কাজ। লরেন্ট দেখিয়েছে, কীভাবে একটি একক কণা অন্য কণাগুলোর কোয়ান্টাম সমুদ্রের মধ্য দিয়ে চলার সময় নিজের ও চারপাশের পরিবেশের আচরণ বদলে দেয়।

পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে থেমে থাকেনি লরেন্ট। বর্তমানে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য জার্মানির মিউনিখে গবেষণা শুরু করেছে। এ বিষয়ে লরেন্ট জানিয়েছে, তার চূড়ান্ত লক্ষ্য সুপারহিউম্যান তৈরি করা। পদার্থবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে মানুষের বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে রুখে দেওয়া সম্ভব, যা বর্তমানে মানুষের পক্ষে অসম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দ্রুত শনাক্তের পাশাপাশি নতুন ওষুধ তৈরিতে সাহায্য করবে।

কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের একাধিক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লরেন্টকে কয়েক কোটি টাকা বেতনে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু লরেন্টের বাবা আলেকজান্ডার ও মা লিডিয়া প্রস্তাবগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা চান না লরেন্ট কেবল গবেষণাগারে বন্দী হয়ে তার শৈশব হারাক। লরেন্ট নিজেও বিশ্বাস করে, মেধা যখন মহৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তখনই তা প্রকৃত সার্থকতা পায়।

প্রসঙ্গত, ১৮১৪ সালে কার্ল উইট ১৩ বছর বয়সে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছিল। ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী ডক্টরেট না হলেও আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের মতো জটিল শাখায় ১৫ বছরেই পিএইচডি সম্পন্ন করা লরেন্টকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী তরুণ বিজ্ঞানীদের একজন বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্র: মানি কনট্রোল