৫ হাজার ফুট ওপরে আটকে আছি, জানি না কীভাবে ফিরব: নেপাল থেকে তাসরিফ খান
August 27, 2026
1 month ago
By SAJ
প্রথম আলো : এখন কী অবস্থায় আছেন?তাসরিফ খান: অবস্থা একদমই ভালো না। দুই দিন ধরে আটকে রয়েছি। কবে এখান থেকে বের হতে পারব, বুঝতে পারছি না। দুশ্চিন্তা প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে।প্রথম আলো : আপনার আশপাশে কোথাও কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে?তাসরিফ খান: আমরা ঘান্দ্রুক নামের যে পর্যটন গ্রামে এসেছি, এই দিকে পাহাড়ে তো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু যে পথ দিয়ে এসেছি, সেই পথ পুরো শেষ হয়ে গেছে। আমাদের এখান থেকে আর যাওয়ার কোনো সহজ রাস্তা নেই। দেখলাম, নেপালের প্রশাসনও এই রাস্তায় চলাচল আপাতত বন্ধ রেখেছে।নেপালে দুর্যোগের আগে সহকর্মীদের সঙ্গে তাসরিফ খানছবি: তাসরিফের সৌজন্যেপ্রথম আলো : এখন কত দিন থাকতে হবে মনে হচ্ছে?তাসরিফ খান: আজ (বৃহস্পতিবার) আমাদের গাইড পরিস্থিতি বুঝতে বাইরে গেছেন। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন। কাল আসবেন। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে আরও দু–তিন দিন লাগতে পারে।প্রথম আলো : দেশে ফেরা নিয়ে কী ভাবছেন?তাসরিফ খান: আমাদের আজ দেশে থাকার কথা ছিল। ভয়াবহ দুর্যোগে নেপালে সাড়ে ৫ হাজার ফুট ওপরে বন্দী হয়ে আছি। আবার দেশে যাওয়ার টিকিটও খুঁজছি, কিন্তু মিলছে না। কবে টিকিট পাব জানি না। মনে হচ্ছে খাবারদাবার, অর্থ নিয়ে একটা সংকটে পড়ে যেতে পারি।তাসরিফ খানছবি: শিল্পীর সৌজন্যেপ্রথম আলো : কী ধরনের সংকট?তাসরিফ খান: টাকাপয়সা নিয়ে একটু বিপদে আছি। এখানে তো ডলার চলে। সঙ্গে অল্প নগদ নেপালি রুপি আর ১০০ ডলার আছে। কার্ডে টাকা আছে। কিন্তু এখানে কার্ড বা অন্য কিছু চলে না। শিগগির আমাদের কাছে থাকা ডলার ফুরিয়ে যাবে। কার্ড দিয়েও কোনো লাভ হবে না। একটাই ভাবনা, আমাদের যেকোনোভাবেই হোক শিগগিরই এখান থেকে চলে যেতে হবে।প্রথম আলো : রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে, ফিরতে হলে অন্য কী উপায় রয়েছে?তাসরিফ খান: প্রথমত, আমরা হিমালয়ের পাশটিতে আছি। এখান থেকে ফেরার রাস্তা সব ভেঙে গেছে। খবর নিয়ে জেনেছি, অনেক জায়গায় পাহাড় ধসে গেছে। এ অবস্থায় আমাদের ঝুঁকি নিয়ে নদীর পাশ দিয়ে যেতে হবে। এভাবে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ট্রেকিং করতে হবে। আবার অনেক জায়গায় প্রচুর পাহাড়ি ঢল হচ্ছে, সেই সঙ্গে ভূমিধস হচ্ছে, নতুন করে রাস্তা ভাঙছে। ট্রেকিং করে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি কি সেটাই দেখতে গেছে আমাদের গাইড। আসার পরে পরিস্থিতি বিস্তারিত বলতে পারব, কবে যেতে পারব।আরও পড়ুনদুর্যোগের মধ্যে নেপালে কেমন আছেন অপু বিশ্বাস৫ ঘণ্টা আগেনেপালে দুর্যোগের আগে সহকর্মীদের সঙ্গে তাসরিফ খানছবি: তাসরিফ খানের সৌজন্যেপ্রথম আলো : নেপালে কেন গিয়েছিলেন?তাসরিফ খান: টানা কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। যে কারণে একটু অবসরের জন্য এসেছিলাম। আমার সঙ্গে কুঁড়েঘর ব্যান্ডের গিটারিস্ট শামসুল আলম ও তানজীব খান আছে। আরও আছে আমার ‘তাসরিফ স্কোয়াড লিডার’–এর সিলেটের আসাদুর রহমান ও লক্ষ্মীপুরের আশরাফুল ইসলাম।প্রথম আলো : গান নিয়ে সামনে কী পরিকল্পনা রয়েছে?তাসরিফ খান: দেশে ফিরে আমাদের নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিও শুটিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন সবার কাছে দোয়া চাই, আমরা যেন সুস্থভাবে ফিরতে পারি। প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুনআলাপন থেকে আরও পড়ুনসংগীত শিল্পীতাসরিফ খানতারকা