খেলা

৫৮ বছর পর রিয়ালের কীর্তি ছুঁয়ে বার্সেলোনার ‘নয়ে নয়’

October 17, 2026
3 hours ago
By SAJ
৫৮ বছর পর রিয়ালের কীর্তি ছুঁয়ে বার্সেলোনার ‘নয়ে নয়’

এক ম্যাচে সাত গোল! কখনো চোখধাঁধানো ড্রিবলিং, কখনো দুর্দান্ত গোল, কখনো আবার গোল করেও হতাশা। এর মধ্যে লাল কার্ডও আছে। সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রোমাঞ্চের যেন পুরো প্যাকেজ। আর সেই রোমাঞ্চের শেষ হাসিটা হাসল বার্সেলোনা।

রিয়াল বেতিসকে ৫–২ গোলে হারিয়ে লা লিগায় নিজেদের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে হান্সি ফ্লিকের দল। শুধু জয়ই নয়, এই ম্যাচে ৫৮ বছরের পুরোনো এক কীর্তিও ছুঁয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগার ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে মৌসুমের প্রথম ৯ ম্যাচের সব কটিতে জিতেছে তারা। এর আগে ৫৮ বছর আগে এমন কীর্তি গড়েছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ।

বার্সেলোনার ফুটবল এখন অনেকটা লাগামছাড়া আনন্দের মতো। গোল করছে, গোল হজমও করছে। কিন্তু প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি গোল করার ব্যাপারে যেন তাদের আত্মবিশ্বাসের কোনো কমতি নেই। বেতিসের বিপক্ষেও দেখা গেল সেই চেনা ছবি।

ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটেই জাদুর ঝলক দেখালেন লামিনে ইয়ামাল। বেতিসের ফাকুন্দো বের্নালকে পায়ের কারুকাজে এমনভাবে বোকা বানালেন, যেন প্রতিপক্ষের এই খেলোয়াড়কে নিয়ে একটু খেলাই করলেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা। এরপর বক্সের প্রান্ত থেকে বাঁকানো শটে বল পাঠালেন জালের ওপরের কোণায়। গোলটি যতটা সুন্দর, তার আগে ইয়ামালের পায়ের কাজও ততটাই চোখজুড়ানো।

তবে বেতিস যে এত সহজে হার মানার দল নয়, সেটিও বোঝা গেল দ্রুতই। ভালেন্তিন গোমেজ গোল করে সমতায় ফেরান স্বাগতিকদের।

এরপর অবশ্য বার্সেলোনা আক্রমণের ঝড় তুলে এগিয়ে যায় ৩–১ ব্যবধানে। ক্লাবের হয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন রদ্রি। এরপর স্কোরশিটে নাম লেখান গ্যাব্রিয়েল জেসুস।

কিন্তু ম্যাচের নাটকীয়তা তখনো শেষ হয়নি। একসময় বার্সেলোনায় খেলা এজ আবদে গোল করে ব্যবধান কমিয়ে আনেন ৩–২-এ। বেতিসের সমর্থকদের মনে তখন নতুন করে আশা। দুই দলের আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের উত্তেজনাও তুঙ্গে।

তবে বিরতির পরই বেতিসের সেই আশায় বড় ধাক্কা লাগে। সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বের্নাল। ১০ জনের দলে পরিণত হয় স্বাগতিকেরা। আর এমন সুযোগ হাতছাড়া করার দল যে ফ্লিকের বার্সেলোনা নয়, সেটি বোঝা গেল কিছুক্ষণের মধ্যেই।

বদলি হিসেবে মাঠে নেমে গোল করেন এরিক গার্সিয়া ও দানি ওলমো। তাতেই বেতিসের ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ আশাটুকুও মিলিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৫–২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

তবে এমন বড় জয়ের মধ্যেও ফ্লিকের জন্য চিন্তার কারণ আছে। সেটি তাঁর দলের রক্ষণ। আক্রমণে বার্সেলোনা যতটা ভয়ংকর, রক্ষণে মাঝেমধ্যেই ততটা নড়বড়ে। বেতিসের বিপক্ষেও দুই গোল হজম করেছে তারা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন দুর্বলতা যে বিপদ ডেকে আনতে পারে, সেটি নিশ্চয়ই অজানা নয় বার্সেলোনা কোচের।

অবশ্য আপাতত এসব দুশ্চিন্তা আড়াল করে দিচ্ছে বার্সেলোনার দুর্দান্ত আক্রমণভাগ। মৌসুমের প্রথম ৯ ম্যাচে ৯ জয়, গোল করেছে অবিশ্বাস্য ৩৯টি। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড়ে ৪টিরও বেশি গোল!

টানা তৃতীয়বারের মতো লা লিগার শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ছুটছে বার্সেলোনা। প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের এই দুরন্ত ছুটে চলা থামাবে কে?

এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তাতে উত্তর খুঁজে পাওয়া কঠিন। বরং মনে হচ্ছে, বার্সেলোনাকে থামানোর চেয়ে তাদের গোলের হিসাব রাখাই প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।