খেলা

‘আটলাসের সিংহ’দের সামনে কমলা–অশ্রুতে ‘তেতো’ রেকর্ড

June 30, 2026
1 month ago
By SAJ
‘আটলাসের সিংহ’দের সামনে কমলা–অশ্রুতে ‘তেতো’ রেকর্ড

মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে কোন দলের সমর্থক বেশি ছিল? মরক্কোর। গ্যালারিতে তাকিয়ে সেটা স্পষ্ট বোঝা গেছে। শুধু মরোক্কোন কেন, তাঁদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় মেক্সিকানরাও। মন্তেরেইয়ে বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে টাইব্রেকারেই আসলে পয়সা উশুল হয়ে গেছে সমর্থকদের।

অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ১-১ গোলে সমতায় ছিল নেদারল্যান্ডস ও মরক্কো। টাইব্রেকারে মিসের মহড়া দেয় দুই দল এবং তাতেই আসলে রোমাঞ্চের স্বাদ পেয়েছেন দর্শক। শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হেসেছেন ‘আটলাসের সিংহ’ খ্যাত মরক্কো দলের সমর্থকেরাই। কারণ, টাইব্রেকারে ৩-২ গোলের জয়ে ডাচদের বিদায় করে মরক্কোই উঠেছে শেষ ষোলোয়।

জয়ের পর মরক্কোর তারকা আশরাফ হাকিমি বলেন, ‘আমাদের এমন ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। কাদের সঙ্গে খেলছি, তা আমরা জানি। মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকতে হয়েছে। সমর্থনের জন্য মেক্সিকোকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। মরোক্কানদেরও ধন্যবাদ জানাই।’

ডাচ তারকা ভার্জিল ফন ডাইক দাঁড়িয়ে হাকিমির বিপরীতে। যোগ করা সময়ে মরক্কোর সমতাসূচক গোলে তাঁর ভুলের অবদান ছিল! হেডে ইসা দিওপ গোল করেছেন লাফ দিয়ে তাঁকে ডিঙিয়ে!

লিভারপুল ডিফেন্ডার অবশ্য জানিয়েছেন, পরিকল্পনামতোই ম্যাচে এগিয়ে যাচ্ছিল ‘অরেঞ্জ’রা, কিন্তু অতিরিক্ত সময়ের পর ধীরে ধীরে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে হয়। ডাইকের ভাষায়, ‘আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই সব চলছিল, কিন্তু শেষ দিকে, অতিরিক্ত সময়ে আমাদের ওপর চাপ বাড়ে। এরপর ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায় এবং দুর্ভাগ্যবশত আমরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলাম।’ ডাইক যোগ করেন, ‘অবশ্যই সব সময়ই কিছু না কিছু উন্নতির জায়গা থাকে, কিন্তু এ মুহূর্তে তা আর কাজে আসবে না।’

মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ উয়াহবি বলেন, ‘আমাদের শান্ত থাকা এবং নিজেদের সামর্থ্যটা উপলব্ধি করা দরকার ছিল। পরের রাউন্ডে যাওয়ার যোগ্য দাবিদার আমরা। নকআউট ম্যাচে মাঝেমধ্যে এভাবে জয় তুলে নেওয়াটা মেনে নিতে হয়।’

নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমানের আক্ষেপ ৭২ মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে গেলেও সেই লিড ধরে রাখতে না পারায়। কোমানের ভাষায়, ‘ হয়তো ম্যাচের কিছু কিছু সময়ে মরক্কোই ভালো সুযোগ তৈরি করেছে, বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ম্যাচে লিড আমাদেরই ছিল এবং ওরা গোল শোধের পথই খুঁজে পাচ্ছিল না।’

কোমান যোগ করেন, ‘এরপর একটা সৌভাগ্যসূচক অ্যাসিস্ট (গোল বানানো) থেকে ওরা গোল পেয়ে গেল। ম্যাচ যখন একেবারে ইনজুরি টাইমে, তখন গোল হজম করাটা নিশ্চিতভাবেই চরম তেতো অনুভূতির।’

সেই অনুভূতি নিয়েই নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার আগে রেকর্ড বইয়ের একটি পাতায় নাম লেখাল স্পেনের পাশে। বিশ্বকাপে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো টাইব্রেকারে হারল ডাচরা। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হারে স্পেনের রেকর্ডে ভাগ বসাল কোমানের দল।

১৯৯৮ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল, ২০২২ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের পর এবার শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে টাইব্রেকারে হারল নেদারল্যান্ডস।