অর্থনীতি

আয়কর রিটার্ন অডিটে পড়লে কী করবেন

May 17, 2026
2 weeks ago
By SAJ
আয়কর রিটার্ন অডিটে পড়লে কী করবেন

আপনার আয়কর রিটার্ন নথি কর বিভাগের অডিট বা নিরীক্ষায় পড়েছে? এ নিয়ে টেনশন বেড়েছে? কী করবেন বুঝতে পারছে না? এমন পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।

কারণ, আয়কর নথি নিরীক্ষায় পড়া মানে আপনার ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ নয়। এবার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিরীক্ষার জন্য আয়কর রিটার্ন ফাইল বাছাই করা হয়েছে। এতে যাঁরা আয়কর সঠিকভাবে দিয়েছেন, তাঁরাও নিরীক্ষায় পড়তে পারেন।

নিরীক্ষায় ৮৮ হাজার করদাতা

এ বছর ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রথম দফায় গত জুলাই মাসে ১৫ হাজার ৪৯৪ জন করদাতার রিটার্ন নথি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় ৭২ হাজার ৩৪১ জন করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে ২০২৩-২৪ করবর্ষের জন্য জমা দেওয়া রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য বিবেচনা করা হয়।

বর্তমানে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। তাঁদের মধ্যে সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা এ বছর রিটার্ন দিয়েছেন। কোনো করদাতা রিটার্নে ভুল তথ্য দিয়েছেন কি না; কর ঠিকমতো দিয়েছেন কি না—তা যাচাই–বাছাই করার জন্য নিরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। অনলাইনেই আপনিই দেখতে পারেন, নিরীক্ষায় পড়েছেন কি না।

কী করবেন

আপনি যদি নিরীক্ষায় পড়েন, তাহলে আপাতত আপনার করার কিছু নেই। আয়কর আইনের ধারা ১৮৩ (৩) (ক) অনুযায়ী, উপ–কর কমিশনার কোনো করদাতার কর নির্ধারণের জন্য যদি করদাতার উপস্থিতি বা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণাদির প্রয়োজন বিবেচনা করেন, তাহলে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ে শুনানির জন্য ডাকবেন। শুনানিতে করদাতা নিজে বা তাঁর প্রতিনিধিকে উপ–কর কমিশনারের নিকট হাজির হতে হবে।

এর আগে আপনি যে রিটার্নে যেসব আয়–ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন, এর বিপরীতে প্রমাণপত্র নিয়ে হাজির হতে হবে, শুনানিতে সেসব দেখাতে হবে। উপ–কর কমিশনার করদাতার কর নির্ধারণপ্রক্রিয়াকালে অধিকতর শুনানি ও প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ চাইতে পারেন।

এখানে বলা প্রয়োজন, শুনানির সুযোগ দেওয়া ছাড়া করদাতার ওপর বাড়তি কর আরোপ করা যাবে না। বাড়তি কর আরোপ করা হলে তা ৩০ দিনের মধ্যে করদাতাকে জানিয়ে দেবে কর অফিস। তাই আপনার রিটার্নের বিপরীতে কাগজপত্র জোগাড় করতে হবে।

কী কী কাজপত্র প্রস্তুত রাখবেন

রিটার্নে যেসব আয়, ব্যয়, সম্পদ বা বিনিয়োগ দেখিয়েছেন, সেগুলোর সমর্থনে কাগজপত্র আলাদা ফাইলে গুছিয়ে রাখুন। যেমন—

১. বেতন সনদ

২. ব্যাংক লেনদেনের বিবরণী

৩. এফডিআর বা সঞ্চয়পত্রের কাগজ

৪. জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার দলিল

৫. ব্যবসার হিসাবপত্র

৬. ঋণের নথি

৭. করের চালান ও উৎসে কর কাটার সনদ

ব্যাংক লেনদেনের ব্যাখ্যা প্রস্তুত রাখুন

ব্যাংক লেনদেন ব্যাখ্যা প্রস্তুত রাখতে হবে। বড় অঙ্কের জমা বা উত্তোলন থাকলে তার উৎস ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে। পরিবার থেকে পাওয়া অর্থ, সম্পদ বিক্রি, ঋণ বা ব্যবসায়িক লেনদেন—যেটিই হোক, প্রমাণপত্র রাখুন।

জীবনযাত্রার খরচের ব্যাখ্যা

আয় ও জীবনযাত্রার মধ্যে অসামঞ্জস্য আছে কি না, দেখুন। রিটার্নে কম আয় দেখিয়ে বড় সম্পদ কেনা বা বেশি খরচ দেখালে প্রশ্ন আসতে পারে। তাই আয়, সঞ্চয় ও সম্পদের তথ্য মিলিয়ে দেখুন।

ভুল গোপন করবেন না

আয়কর নথিতে ভুল থাকলে গোপন না করে ব্যাখ্যা দিন। হিসাবের ভুল, তথ্য বাদ পড়া বা টাইপিং সমস্যা থাকলে তা পরিষ্কারভাবে জানান। প্রয়োজনে সংশোধিত রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ আছে কি না, তা জেনে নিন।