বাংলাদেশ

বাবার মৃত্যুর খবরে ‘বাবা, বাবা’ বলে কাঁদছিল আট বছরের রোজা

August 19, 2026
2 months ago
By SAJ
বাবার মৃত্যুর খবরে ‘বাবা, বাবা’ বলে কাঁদছিল আট বছরের রোজা

কলকাতায় আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঢাকার সাভারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু (৩৭) মারা গেছেন। নিজের দোকানের জন্য প্রসাধনসামগ্রী আনতে গত সোমবার রাতে তিনি কলকাতায় গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে বাবুসহ মারা যাওয়া পাঁচ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মৃত আহম্মেদ বাবু সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ী এলাকার প্রয়াত আদম আলীর ছেলে। তিনি আমিনবাজারের স্থানীয় শাহীন সুপার মার্কেটে প্রসাধনসামগ্রীর দোকান চালাতেন। স্ত্রী গুলশানারা বুবলি ছাড়াও এলিনা হাসান রোজা (৮) ও সোয়াত (৫) নামে তাঁর দুটি ছেলেমেয়ে আছে।

আজ বুধবার বিকেল চারটার দিকে বাবুদের চারতলা আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, বাবুর মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা। কেউ কেউ তাঁদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে ‘বাবা, বাবা’ বলে কাঁদছিল আট বছর বয়সী মেয়ে রোজা। ছেলে সোয়াত এখনো সেভাবে কিছু বুঝতে পারছে না। বাবুর বন্ধুরা তাদের আগলে রেখেছেন।

এ সময় কাজের জন্য বাসার বাইরে গিয়েছিলেন বাবুর স্ত্রী গুলশানারা বুবলি। তখনো তিনি স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পাননি। বাবুর মৃত্যুসংবাদ সহ্য করতে পারবেন কি না, সে আশঙ্কা থেকে স্বজনেরা ফোন করে তাঁকে বাড়িতে ফিরতে বলেছেন।

বাবুর সঙ্গে একই মার্কেটে দোকান চালান মো. রায়হান। বাবুর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনিও তাঁর বাসায় গিয়েছিলেন। রায়হান বলেন, ‘সোমবার বাবু ভাই বলছিল, “কলকাতায় যাচ্ছি, তোর বান্ধবীর জন্য কিছু লাগবে নাকি?” আমি বলছিলাম, না ভাই। আপনে যান, কিছু লাগলে পরে বলবোনে। বাবু ভাই খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। আমাদের সিনিয়র হলেও বন্ধুর মতো মিশতেন।’

বাবুর বন্ধু মো. ইমরান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিজের দোকানের মালামাল আনতে প্রায়ই ভারতে যেত বাবু। ভিসা বন্ধ হওয়ার পর যেতে পারেনি। ভিসা চালু হওয়ার পর আবেদন করে ভিসা পায়। গত মাসেও মালামাল নিয়ে আসছে। গত পরশু আবার কলকাতায় যায়। গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত যোগাযোগ ছিল। এরপর আর আমাদের কথা হয়নি।’

ইমরান জানান, আজ দুপুরে বাবুর আরেক বন্ধু রকির নম্বরে হাইকমিশন থেকে ফোন আসে ‘বাবু খান’ নামে কাউকে চেনে কি না জিজ্ঞাসা করে। বাবু নামে এক বন্ধু আছে, কিন্তু তাঁর নাম বাবু খান নয় বলে তিনি জানান। পরে ছবি পাঠালে শনাক্ত করতে পারবেন কি না, জিজ্ঞাসা করে। ‘হ্যাঁ’ বললে তারা ছবি পাঠায়। ছবি দেখার পর তাঁরা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন। তিনি বলেন, ‘ছবি দেইখা মনে করছি, আগুন লাগার পর ধোঁয়ার কারণে হয়তো মারা গেছে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান এবং হতাহত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন মারা গেছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে স্থানীয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে। অন্যদের পরিচয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। এ ছাড়া আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।