বাংলাদেশ

বাকি রাখা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দোকানিকে মারধরের অভিযোগ

April 16, 2026
4 months ago
By SAJ
বাকি রাখা নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে দোকানিকে মারধরের অভিযোগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বকেয়া টাকা নিয়ে কথা–কাটাকাটির জেরে দোকানিকে মারধর ও দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ঝুপড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম জালাল সিদ্দিকী। তিনি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি শাখা ছাত্রদলের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। আর ওই দোকানির নাম হামিদ মোহাম্মদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। বর্তমানে তিনি এ দোকানের আয় দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোকানে ৩০ টাকা বাকি রাখা নিয়ে জালাল সিদ্দিকীর সঙ্গে দোকানি হামিদ মোহাম্মদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে দোকানিকে মারধরের ঘটনা ঘটে।

জানতে চাইলে দোকানি হামিদ মোহাম্মদ বলেন, ‘জালাল সিদ্দিকী কথা বলার এক পর্যায়ে আমার গায়ে হাত তোলেন। দোকানের পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর তিনি আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন, তবে এখনো কোনো ক্ষতিপূরণ দেননি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি সেটিই মেনে নেব।’

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী বলেন, ‘দোকানি সবার কাছে বলে বেড়াচ্ছেন, আমি টাকা বাকি রেখেছি। তাঁর কথা শোনার পর আমি নিজের মেজাজ হারিয়ে ফেলি। কিন্তু তাঁকে আমি মারধরও করিনি, দোকান ভাঙচুরও করিনি; বরং আমি ঘটনার জন্য তাঁর কাছে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছি।’

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘ওই দোকানি অভিযোগ করে বলেছিলেন, ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা খাবার খেয়ে টাকা দেন না। এ সময় দোকানি জালাল নামের একজনের কাছে ৩০ টাকা পাওনার কথা জানান। আমরা বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিই। এরপর আমরা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর দোকানে ভাঙচুরের খবর পাই।’

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। আমরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। আমাদের সংগঠন বিগত সময়ে ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড (দোকানে বাকি রাখা) করেনি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখব।’