বিদ্যালয়ের সামনের দেয়ালে লেখা ‘জয় বাংলা’, ৫ শিক্ষার্থীকে ডেকেছে কর্তৃপক্ষ
চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের একটি বসতবাড়ির দেয়ালে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখার ঘটনায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিদ্যালয়ের পঞ্চম ও সপ্তম শ্রেণির এসব শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করা হয়। শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে দেয়ালে স্লোগান লেখার বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন।
ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটের পর সাত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশের একটি গলিতে প্রবেশ করছে। তাদের একজন স্প্রে রং দিয়ে বাংলায় ও ইংরেজিতে বিভিন্ন স্লোগান লিখছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় পাঁচ শিক্ষার্থীকে শনাক্ত করে পুলিশ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, দেয়াল লিখনে জড়িত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ বিদ্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে অন্যদের বিষয়ে তথ্য জানার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে জানিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তদন্তে পাওয়া তথ্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। কর্তৃপক্ষ পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দাবি বিএনপির
এদিকে দেয়ালে স্লোগান লেখার ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছে বিএনপি। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল রাতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরে শহীদ হাসান চত্বরে প্রতিবাদ সভা করেন তাঁরা।
সভায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ও জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব বক্তব্য দেন। তাঁরা এ ঘটনাকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোর ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, দেয়ালে স্লোগান লেখার বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের দিয়ে দেয়ালের লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষককে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।