বাংলাদেশ

বিহারের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে পানিচুক্তির পদক্ষেপ: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর

September 3, 2026
1 month ago
By SAJ
বিহারের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে পানিচুক্তির পদক্ষেপ: ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর

ভারতের বিহার রাজ্যের পানির চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে পানিচুক্তির বিষয়ে ‘উপযুক্ত পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। বিজেপি জোটের অন্যতম শরিক জনতা দল ইউনাইটেডকে (জেডিইউ) এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দল দুটি জোটবদ্ধভাবে বিহারে ক্ষমতায় রয়েছে।

জেডিইউর কার্যকরী সভাপতি ও ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় কুমার ঝাকে লেখা এক চিঠিতে বিজেপি সরকারের ওই আশ্বাসের কথা জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত ৬ আগস্ট রাজ্যসভায় সঞ্জয় ঝা বিহারে পানির বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দাবি করেন। তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বিহারের পানির স্বার্থ রক্ষার জোর দাবি জানিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ আগস্ট তাঁকে চিঠি লেখেন জয়শঙ্কর।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর।

সঞ্জয় ঝাকে লেখা চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আপনার উদ্বেগের বিষয়টি আমরা পুরোপুরি বুঝতে পেরেছি।’ তিনি লিখেছেন, চুক্তিটির বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ দিকগুলো সার্বিকভাবে পর্যালোচনার জন্য পানিশক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের অংশগ্রহণে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চিঠিতে জয়শঙ্কর জানান, ২০২৩ সালের ২২ আগস্ট ও ৩০ অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের ১৫ মার্চ ও ৩১ মে অনুষ্ঠিত পরামর্শসভাগুলোতে বিহার সরকারের প্রতিনিধি অংশ নেন। এসব সভায় বিহারের খাওয়ার পানি ও শিল্পকারখানার পানির চাহিদাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

‘এসব বিষয় মাথায় রেখেই সরকার উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে’ বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠির প্রতিক্রিয়ায় জেডিইউ নেতা সঞ্জয় ঝা জানান, এটি বিহারের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য স্বস্তির এক মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারত সরকার যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তাতে বিহারের স্বার্থ যেন সম্পূর্ণ ও ন্যায্যভাবে বিবেচনা করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিহার কোনো অনুগ্রহ চাইছে না। আমরা শুধু আমাদের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নে যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেটাই চাইছি, যাতে আগামী ৩০ বছরের জন্য ১৩ কোটি মানুষকে খাওয়ার পানি, সেচ এবং শিল্পকারখানার পানি থেকে বঞ্চিত হতে না হয়।’

গঙ্গা ও এর উপনদীগুলোর পানিতে বিহারের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জেডিইউ তাদের দাবি অব্যাহত রাখবে বলেও জানান সঞ্জয় ঝা। এর আগের সরকারে পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও সঞ্জয় ঝা গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি এবং বিহারের জন্য ন্যায্য বরাদ্দের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।