আন্তর্জাতিক

বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

April 22, 2026
23 hours ago
By SAJ
বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করলেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নেপালের নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং আজ বুধবার পদত্যাগ করেছেন। অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা ব্যবসায়ী দীপক ভট্টের সঙ্গে তাঁর ‘ব্যবসায়িক সম্পর্কের’ অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি বিতর্ক শুরু হয়। সেই বিতর্কের জেরেই শেষ পর্যন্ত পদ ছাড়লেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন গুরুং। ফেসবুকে তিনি লেখেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং পদে থেকে তদন্তপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করার স্বার্থে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। আজ থেকেই এটি কার্যকর হবে।’

সদ্য পদত্যাগী এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, শেয়ারসহ তাঁর বিভিন্ন বিনিয়োগ নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটিকে তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।

গুরুং বলেন, ‘আমার কাছে পদের চেয়ে নৈতিকতা বড়, আর জনগণের আস্থার চেয়ে বড় কোনো শক্তি নেই। সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে দেশে চলমান “জেনারেশন জেড” আন্দোলনও এই বার্তাই দিচ্ছে। সরকারি পদস্থ থাকা অবস্থায় জীবন কলঙ্কমুক্ত হতে হবে এবং নেতৃত্বকে জবাবদিহি করতে হবে। আমার ৪৬ ভাই–বোনের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে গঠিত এই সরকার নিয়ে যদি কেউ প্রশ্ন তোলে, তবে তার উত্তর হলো নৈতিকতা।’

দীপক ভট্টের সঙ্গে ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চাপের মুখে পড়ার পর গুরুং বলেছিলেন, তিনি তদন্তে সব ধরনের সহযোগিতা করবেন।

গত সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে গুরুং জানান, অনেক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তবে ধারণা বা অনুমানের চেয়ে সত্যের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ আর সত্য এক কথা নয়। সিদ্ধান্ত আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।’ তিনি আরও জানান, দলের নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্ত তিনি মেনে চলবেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করবেন।

বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারে এটি দ্বিতীয় কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগ। এর আগে গত ৯ এপ্রিল শ্রম, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী দীপক কুমার শাহকে বরখাস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শাহ। তাঁর দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)’ আচরণবিধি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল।

দলীয় প্রধান রবি লামিছানের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে দীপক কুমার শাহকে সরিয়ে দেওয়া হয়। দলের কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিশনের তদন্তে উঠে আসে, তিনি পদের অপব্যবহার করে নিজের স্ত্রী জুনু শ্রেষ্ঠাকে স্বাস্থ্যবিমা বোর্ডের সদস্য হিসেবে বহাল রেখেছিলেন। এই পদ দীর্ঘদিন ধরেই মূলত নিষ্ক্রিয় ছিল।