খেলা

বজ্রপাত–বৃষ্টির সময় এমবাপ্পেরা কী করছিলেন

June 23, 2026
1 month ago
By SAJ
বজ্রপাত–বৃষ্টির সময় এমবাপ্পেরা কী করছিলেন

তাঁদের জন্য এই অভিজ্ঞতা নতুন।

খেলা শুরু হয়েছে স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায়। শেষ বাঁশি যখন বাজল, তখন ঘড়িতে রাত ৮টা ৪৭ মিনিট। বিরতিসহ একটা ৯০ মিনিটের ম্যাচ শেষ হতে যে সময় লাগে, তার চেয়ে দ্বিগুণ লেগেছে বিশ্বকাপে গতকালের ফ্রান্স–ইরাক ম্যাচটিতে। মাঝে খেলা হয়নি দুই ঘণ্টার বেশি সময়।

ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষের দিক থেকেই আকাশের চেহারা বদলাতে শুরু করে। শুরু হয় ভারী বৃষ্টি, সঙ্গে বজ্রপাতের আভাস। নিরাপত্তার কারণে ম্যাচ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুই দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফের সদস্যরা বসে থাকেন ভেতরে লকার রুমে।

ক্রিকেটের মতো খেলায় ব্যাটিং দলের খেলোয়াড়দের দীর্ঘ সময় ড্রেসিংরুমে বসে থাকার অভ্যাস আছে। টেস্টে তো কোনো কোনো ব্যাটসম্যানকে এক–দুই দিনও মাঠে নামার অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়। কিন্তু ফুটবলে বিষয়টা ভিন্ন। খেলার মধ্যে পুরো দলের একসঙ্গে ড্রেসিংরুমে থাকা বলতে দুই অর্ধের বিরতির সময়টুকু।

মিনিট পনেরোর বিরতিতে অভ্যস্ত সেই ফুটবলারদের যখন টানা দুই ঘণ্টার বেশি সময় এক জায়গায় আটকে থাকতে হয়েছে, তখন কীভাবে সময় কাটিয়েছেন তাঁরা? কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলের মানসিক অবস্থাই বা তখন কেমন ছিল?

ম্যাচ শেষে ফ্রান্স অধিনায়ক এমবাপ্পের ভাষাতেই শুনুন তাঁর অভিজ্ঞতা—‘সন্ধ্যাটা খুব দীর্ঘ ছিল। আমরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি। মানসিক ও আবেগিক দিক থেকে এটা খুব ক্লান্তিকর ছিল। কারণ, ড্রেসিংরুমে বসে থেকেও পুরো মনোযোগ ধরে রাখতে হয়েছে।’

ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচটিতে দুটি গোল করেছেন এমবাপ্পে। একটি খেলা বন্ধের আগে, আরেকটি খেলা পুনরায় চালু হওয়ার পর।

দীর্ঘ বিরতিতে কে কী করেছেন—সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করা হলে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের প্রথম উত্তর ছিল মজার—‘তাস খেলেছি।’ পরে অবশ্য জানান, বারবার খেলা শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছিল বলে অপেক্ষাতেই কেটেছে পুরো সময়, ‘আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলাম। আড্ডা দিয়েছি, মজা করেছি। এখানে নিরাপত্তার বিষয় জড়িত। বৃষ্টি বা বজ্রপাতের সঙ্গে তো লড়াই করা যায় না। ঝুঁকি না নেওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

বৃষ্টির সময় দর্শকদেরও গ্যালারি ছেড়ে স্টেডিয়ামের নিরাপদ অংশে আশ্রয় নিতে বলা হয়। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামের লাউডস্পিকারে নিয়মিত ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতির খবর জানানো হচ্ছিল। পরে যখন জানানো হয়, আবহাওয়ার ঝুঁকি কেটে গেছে, তখন স্টেডিয়ামজুড়ে উল্লাসধ্বনি ওঠে। বৃষ্টির মধ্যে রেইনকোট পরে নাচতেও দেখা যায় অনেক সমর্থককে।

খেলা বন্ধ থাকার সময় ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরা শুধু বসেই ছিলেন না। দলের ডিফেন্ডার জুলস কুন্দে জানিয়েছেন, শরীর সচল রাখতে তাঁরা কিছুটা সাইক্লিংও করেছেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন বিরতির পর নতুন একটা ম্যাচ শুরু হচ্ছে। আমরা কিছুটা সাইক্লিং করেছি, তারপর বসে গল্প করেছি। সবাই চেয়েছিল ম্যাচটা শেষ করতে। তবে মাঠ খেলার উপযোগী কি না, সেটাও নিশ্চিত হতে হতো। কারণ, কিছু জায়গায় পানি জমে গিয়েছিল।’

প্রায় এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর খেলোয়াড়েরা আবার মাঠে নেমে ওয়ার্মআপ শুরু করেন।

দীর্ঘ বিরতির নেতিবাচক প্রভাবই পড়েছে ইরাকের ওপর, এমন দাবি করেছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড, ‘খেলা আবার শুরু হওয়ার আগে আমি খেলোয়াড়দের বলেছিলাম, মানসিকভাবে কে বেশি প্রস্তুত থাকতে পারে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের একটি ভুল বড় মূল্য চুকিয়েছে।’

৬২ বছর বয়সী এই কোচ জানান, তাঁর পুরো ক্যারিয়ারে কখনো এত লম্বা সময় বসে থাকার অভিজ্ঞতা হয়নি। ইরাক অবশ্য বিরতির ওই সময় ভিডিও বিশ্লেষণেও সময় কাটিয়েছে। প্রথমার্ধের ফুটেজ দেখে ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন কোচিং স্টাফ। আর্নল্ডের ভাষায়, ‘খেলোয়াড়দের যতটা সম্ভব শান্ত ও স্বস্তিতে রাখার চেষ্টা করেছি। আমাদের সবার জন্যই এটা ছিল একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা।’

নতুন অভিজ্ঞতায় ভালোভাবে উতরে গেছে ফ্রান্স। বিরতির আগে ১–০ গোলে এগিয়ে থাকা দলটি পরে আরও দুটি গোল করে ৩–০ ব্যবধানে জিতেছে।