বাংলাদেশ

চীনের নেতৃত্বে এআই সংস্থায় পর্যবেক্ষক বাংলাদেশ

August 1, 2026
2 weeks ago
By SAJ
চীনের নেতৃত্বে এআই সংস্থায় পর্যবেক্ষক বাংলাদেশ

চীনের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক সহযোগিতা সংস্থার (ডব্লিউএআইসিও) পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আজ শনিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ কথা জানিয়েছে।

গত ১৬ জুলাই ২৯ দেশ নিয়ে গঠিত সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। সাংহাইভিত্তিক সংস্থাটির লক্ষ্যের বিষয়ে বলা হয়েছে, উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গভীর করা; বৈশ্বিকভাবে ডিজিটাল বিভক্তি কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রসার; বৈশ্বিক এআইয়ে অগ্রগতির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত, নিরপেক্ষ ও বৈষম্যমুক্ত পরিবেশকে সমর্থন এবং নতুন ও ক্রমবিকাশমান এই প্রযুক্তি যেন মানুষের জন্য উপকারী ও নিরাপদ থাকতে পারে, সে লক্ষ্য নিয়ে এআইয়ের নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া।

প্রসঙ্গত, গত মাসে চীনের সাংহাইয়ে এআইবিষয়ক সম্মেলন এবং বৈশ্বিক এআইবিষয়ক সুশাসন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিবসহ অন্তত ১০০টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রাথমিকভাবে ২৯ দেশকে সদস্য করে এআই সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের এক সভায় এই জোটের ঘোষণা দেয় চীন। চীনের সঙ্গে এই জোটে প্রাথমিক সদস্যদেশের মধ্যে রাশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগালসহ ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর (উন্নয়নশীল, স্বল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশ) কয়েকটি দেশ রয়েছে। ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে আলোচনা করেন। ওই বৈঠকে ডব্লিউএআইসিওতে বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেখা করেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তাঁরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ডব্লিউএআইসিওতে বাংলাদেশের যুক্ততার বিষয়টিও আলোচিত হয়।

বাংলাদেশ এমন দিনে চীনের নেতৃত্বাধীন ওই সংস্থায় যোগ দেওয়ার কথা জানাল, যেদিন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী আইটি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। এ সময় সার্জিও গর বলেন, ওই খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দেশটি প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হতে পারে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্যাক্স সিলিকা নামের একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক উদ্যোগ নিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন সার্জিও গর। ওই বৈঠকের পর বাংলাদেশে চীনা প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেছে কি না, তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকেরা। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা একটা প্রক্রিয়া, যেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি, দুনিয়াতে দুই রকম সিস্টেম তৈরি হচ্ছে; দুনিয়াটা দুই রকম ব্লকে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। এটা ক্রমবিকাশমান প্রযুক্তি, আমরা অনেক কিছুই জানি না। ...নতুন যে প্রতিষ্ঠান হয়েছে, ওয়ার্ল্ড এআই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন— যুক্তরাষ্ট্র এখন সেটা পর্যালোচনা করছে। এখনো তো তাদের পুরো অভিমতটা আমরা জানি না।’