ছুটির দিনে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বারবার অগ্নিকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ব্যবসায়ীদের
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ছুটির দিন বারবার আগুন লাগা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, ছুটির দিনেই কেন বারবার আগুন লাগছে। এটা রহস্যজনক।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের অক্টোবরে আগুন লাগল। কাদের দায়িত্ব অবহেলায় আগুন লেগেছিল, সেটা জানা জানা যায়নি। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হয়েছে কি না, তা–ও জানা যায়নি।
এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আগুন লাগার ঘটনা বন্ধ হবে না।
গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ২৪ মিনিটে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর ফটকের পাশে মালামাল রাখার স্থানে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখে। তারা রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে গত বছরের ১৮ অক্টোবর দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট টানা প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সর্বশেষ ডিএইচএল কুরিয়ার সার্ভিসের মালামাল রাখার জায়গার একটি কনটেইনারে আগুন লেগেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্তের পর জানা যাবে।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনেই কেন বারবার কার্গো ভিলেজে আগুন লাগছে। এটা রহস্যজনক।
এদিকে আগুনের কারণ ও সম্ভব্য গাফিলতি খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত গতকাল রাতে সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে বোঝা যাবে কী থেকে আগুনটা ধরেছে। এ বিষয়ে পাঁচ সদস্যের একটা কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে এখানকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো শর্টসার্কিট হবে কেন। এর আগেও যে অগ্নিকাণ্ড হয়েছিল, সেখানেও তদন্ত রিপোর্টের শর্টসার্কিট ছিল। তাহলে নিশ্চয়ই গাফিলতি রয়েছে। আমাদের তা স্বীকার করতে হবে।’
এদিকে আজ শনিবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে লাগা আগুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার জরুরি বৈঠকও করেন। তবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই দ্রুত বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।