বাংলাদেশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৮ বা ১০ লেন করলে কানেকটিভিটি বাড়বে: রাশিদুল হাসান

January 11, 2026
3 months ago
By SAJ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৮ বা ১০ লেন করলে কানেকটিভিটি বাড়বে: রাশিদুল হাসান

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নগর ও অঞ্চল–পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশে ৫৯২টি নগর কেন্দ্র বা নগর আছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বৈচিত্র্য তথা ভিন্নতা এমন, ৫৯২টি নগর কেন্দ্র থাকার পরও ৪টিতে দেশের নগর জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ লোক বাস করে। তার মধ্যে আবার ৩৮ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ বাস করে ঢাকায় এবং বাকি ১২ শতাংশ বাস করে চট্টগ্রাম মহানগরীতে। তাহলে ৫৯২ সংখ্যার দিক থেকে অনেক বড় হলেও মানুষের ঘনবসতি বা অবস্থানগত দিক থেকে ঢাকার পরপরই চট্টগ্রামের অবস্থান।

চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে—শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন রাশিদুল হাসান।

আজ রোববার চট্টগ্রাম নগরের র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউয়ের মেঘলা হলে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে প্রথম আলো। এতে সহায়তা করছে শিল্প গ্রুপ জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, আবুল খায়ের গ্রুপ ও টিকে গ্রুপ।

গোলটেবিল বৈঠকে রাশিদুল হাসান বলেন, ‘এখানে একটি দুর্ভাগ্য হচ্ছে যে আমাদের বাংলাদেশের পরিসংখ্যানের জায়গাতে কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। সর্বশেষ আদমশুমারি রিপোর্ট অনুসারে বলা হচ্ছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর এই জনসংখ্যা ৩৪ লাখ। কিন্তু সিটি করপোরেশন আগে ৬০ লাখ জনসংখ্যার কথা বলত, এখন সেই সংখ্যা কখনো ৭০ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮০ লাখ বলছে। এটা নিয়েও গবেষণা হওয়ার চেষ্টা হচ্ছে যে আসলে সংখ্যাটা কত।’

অধ্যাপক রাশিদুল হাসান বলেন, একটি বাণিজ্যিক রাজধানী হলে মানুষের কর্ম প্রয়োজন। প্রাকৃতিক যে বৈশিষ্ট্যগত দিক আছে, সেদিক দিয়ে চট্টগ্রাম স্বয়ংসম্পূর্ণ। সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর এবং ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে চট্টগ্রাম সব কানেকটিভিটির সঙ্গে সংযুক্ত। পূর্বমুখী নীতির আলোকে চিন্তা করলে মিয়ানমার-চায়না এই ট্র্যাকের সঙ্গে কিন্তু রেল যোগাযোগের মাধ্যমে সংযুক্ত হওয়া যাবে, বাণিজ্যিক জায়গা থেকে সমুদ্রবন্দর তো আছেই। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বর্তমানে ৪ লেন রাস্তার যে কানেকটিভিটি আছে, সেটিকে ৮ লেন, ১০ লেন করলে সেটি সমগ্র দেশের সঙ্গে কানেকটিভিটি বাড়িয়ে দেবে।

গোলটেবিল বৈঠকে স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জানিয়েছিলেন চট্টগ্রামকে বাণিজ্যের রাজধানী হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ হবে। এরপর ২০০৩ সালের ৬ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা বৈঠকে চট্টগ্রামকে বাণিজ্য রাজধানী হিসেবে উন্নয়নের জন্য ১৬ পয়েন্ট যুক্ত কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর পর থেকে কথাটা বারবার আসে–যায়, আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে খুব একটা পরিষ্কার সিদ্ধান্ত হয়নি বা বাস্তবায়নের দিকে যায়নি।’

সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, ‘আমি গত নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামে এসেছিলাম। একটা বড় অনুষ্ঠান করেছিল প্রথম আলো। অনুষ্ঠানে মুক্ত আলোচনায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জোর করে এই বিষয়টা উত্থাপন করেছিলেন যে চট্টগ্রামের কী হবে, কী হলো, দ্বিতীয় রাজধানীর কী হলো? আমার মনে হচ্ছে, প্রায় ১৫ বছর আগে আমরা চট্টগ্রামে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে দ্বিতীয় রাজধানী চট্টগ্রামের বিষয়ে একটা আলোচনা করেছিলাম। চেম্বারের প্রতিনিধিরা আমাদের কাছে দাবি করলেন যে আপনি একটা উদ্যোগ নেন এবং নির্বাচনের আগে বিষয়টি যেন সামনে থাকে। তো সেটা মাথায় রেখে কিন্তু আজকের অনুষ্ঠান। আমাদের ব্যবসায়ী বন্ধুরা যাঁরা আছেন, তাঁদের একটা দাবি ছিল। সেটা থেকে, সেই বিবেচনা থেকে, আজকের অনুষ্ঠানটা করা হচ্ছে।’