জীবনযাপন

একদিন বিরিয়ানি খেলে পরদিন কী করেন মডেল আজিম

August 4, 2026
2 months ago
By SAJ
একদিন বিরিয়ানি খেলে পরদিন কী করেন মডেল আজিম
প্রথম আলো: মডেল হবেন, ছোটবেলার ভাবনায় এটা ছিল? ফ্যাশন নিয়ে কাজ করব, কখনো চিন্তাও করিনি। স্কুলে থাকতে খেলাধুলা খুব ভালো লাগত। বিশেষ করে ফুটবল ও ক্রিকেট। সেনাবাহিনীতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছেটা ছিল বেশি। প্রথম আলো : তাহলে মডেলিংয়ে এলেন কীভাবে? বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর বন্ধুরা বলত, ‘দোস্ত তুই কিন্তু এটা করতে পারিস।’ তখন থেকেই এই চিন্তার মধ্যে ঢুকি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুটিই করেছি ঢাকা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে। এরপর শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি থেকে দুই বছরের একটা কোর্স করি ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর। এ সময় আমার এক বন্ধুর কারণেই একটা পোর্টফোলিও শুট করি। ক্যানভাস, আইস টুডেতে পাঠাই। আইস টুডের একটা শুট দেখে এক্সট্যাসি ব্র্যান্ড থেকে আমাকে ডাকে। ২০১০ সালের কথা এটি। বাংলাদেশে কোনো ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রথম কাজ করি। এরপর বাংলালিংক, বিগ শেভিং রেজার, ক্যাটস আইয়ের সঙ্গে কাজ করি। এভাবেই আমার মডেলিং পেশার শুরু। মনে আছে, আমার প্রথম শুটে কো–মডেল ছিলেন আজরা ও ইমি। সে সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল। তাঁদের সঙ্গে নতুন একটা ছেলে কাজ করেছেন—এটা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো অস্বস্তি বা নেতিবাচক ভাব ছিল না। উল্টো আমাকে এতটাই সহযোগিতা করেছিলেন, একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল শুটটা বোধ হয় আমাকে ঘিরেই হচ্ছে। তখনকার জনপ্রিয় মডেল আসিফ আজিমের কাছ থেকে অজান্তেই অনেক কিছু শিখেছি। আসিফ খান আমাকে মাঝেমধ্যেই দেখাতেন, র‍্যাম্পে কীভাবে হাঁটতে হবে। আমার শুরুটা হয়েছিল খুব ভালো একটা দলের সঙ্গে। বিবি রাসেল শুধু দেশের ভেতরেই নন, দেশের বাইরেও কোরিওগ্রাফারের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সে সময় দেশের বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়াটা বিশাল ছিল।  ভারতে সুযোগ থাকলেও আমি চেয়েছিলাম মডেলিং যখন করবই তাহলে ইতালিতে যাব। না বুঝেই আমি ইতালিতে চলে গিয়েছিলাম। এটার পেছনেও মজার একটা ঘটনা আছে। ২০১৩ বা ২০১৪ সালের কথা। তখন তো এত কিছু বুঝতাম না। নিউমার্কেট থেকে বাইরের দেশের ফ্যাশন ম্যাগাজিনগুলো কিনতাম। ওদের ফটোগ্রাফার, ফ্যাশন হাউসগুলো দেখতাম। ঠিকানা দেওয়া থাকত। সেগুলোই আমি লিখে রাখতাম। হাতে লিখে রাখা সেই কাগজ নিয়েই মিলানে চলে গিয়েছিলাম। তখন আমার কাছে মোবাইলও ছিল না। বুঝিনি যে বাইরে কাজ করতে ওয়ার্ক পারমিট লাগবে। ওরা আমাকে পছন্দ করেছিল। কিন্তু কাজ করতে পারিনি। সেই যাত্রায় পোর্টফোলিও শুট করেছিলাম ইতালি আর লন্ডনে। এত বছর পর এসে এখনো আমার কাছে র‍্যাম্পে হাঁটার বিষয়টি শিহরণ জাগায়ছবি: কবির হোসেনপ্রথম আলো : কাজ করে প্রথম কবে এবং কত টাকাটা পেয়েছিলেন? ২০১০ সালে ক্যাটস আই ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। আরও পড়ুন‘পাতার বাঁশরি’তে সুনিধির পোশাকের পেছনের গল্প, দেখুন ১৫টি ছবি২৭ জুলাই ২০২৬প্রথম আলো: প্রথমবার র‍্যাম্পে হাঁটার অভিজ্ঞতা২০১০ সালে প্রথমবার র‍্যাম্পে হেঁটেছিলাম। বাটেক্সপোর শো ছিল। সানজিদা হক লুনা আমাকে ডেকেছিলেন। এরপর ঢাকা ফ্যাশন উইকে হাঁটি। উদ্বিগ্ন ছিলাম। আবার আত্মবিশ্বাসও ছিল। দুটিই কাজ করছিল মনের ভেতর। শো শেষ হওয়ার পর সবাই যখন প্রশংসা করছিল, বুঝলাম কাজের মান খারাপ হয়নি। এত বছর পর এসে এখনো আমার কাছে র‍্যাম্পে হাঁটার বিষয়টি শিহরণ জাগায়। সবচেয়ে ভালো লাগে ঠিক হাঁটার আগমুহূর্তে সবাই যখন লাইনে দাঁড়াই সে সময় একে অপরের সঙ্গে মজা করা। প্রথম আলো : শেষ কবে র‍্যাম্পে হেঁটেছিলেন? বলিউড তারকা অর্জুন রামপাল ২০২৪ সালের জুন মাসে দেশীয় লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড জুরহেমের ‘ব্লু ড্রপস’ ফ্যাশন শোতে শো-স্টপার হিসেবে র‍্যাম্পে হাঁটেন। ঢাকায় সেটাই আমার শেষ কাজ করা। আর দেশের বাইরে মাস দুয়েক আগে কলম্বো ফ্যাশন উইকে র‍্যাম্পে হেঁটেছিলাম। হেঁটেছেন প্যারিস ফ্যাশন উইকের র‍্যাম্পেওছবি: আজিম উদ্দৌলার সৌজন্যেপ্রথম আলো : পরিবার থেকে আপত্তি করেনি?আমার বাড়ি বাগেরহাটে। সেখানেই বড় হওয়া। এক্সট্যাসির ডেনিমের যে শুটটি করেছিলাম প্রথমবার, বেশ খোলামেলা পোশাকে ছিলাম। ১০ পৃষ্ঠার একটা ক্যাটালগের মতো বের করেছিল তারা। আমার মাকে দেখালে তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। এটা আমাকে উৎসাহিত করে। পরিবার থেকে কখনো বাধা পাইনি। শুধু আমাকে বলা হয়েছিল, পড়ালেখাটা শেষ করতে হবে। আরও পড়ুন১৬ ছবিতে সুনিধি নায়েকের বহুমাত্রিক শিল্পী হয়ে ওঠার যাত্রা০৯ জুলাই ২০২৬প্রথম আলো: মডেলিংকে একমাত্র পেশা হিসেবে নিয়ে কি থাকা যায়? সাধারণত যখন কেউ কোনো পেশায় ঢোকেন, তার একটা নির্দিষ্ট উপার্জন থাকে। তিনি জানেন মাস শেষে কত টাকা পাবেন। সেই নিশ্চয়তা নিয়েই অনেকে দীর্ঘ সময় একই পেশায় কাজ করেন। হ্যাঁ, মডেলিংয়ে একটা বিষয় থাকে যে এখানে একটা সময় বাধা থাকে। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যেও নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও পেশাদারত্ব থাকলে ভালো উপার্জন করা সম্ভব। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মডেলিংয়ের পাশাপাশি শুরু থেকেই বিকল্প কোনো পেশা বা ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা থাকলে ভালো হয়। এটা প্রথম থেকেই ভাবনায় থাকলে ভালো। অনেকের হয়তো বুঝতে দেরি হয়ে যায়। একটা কথা বলব, পড়াশোনা শেষ করাটা বাধ্যতামূলক। তাহলে পরে পরিকল্পনা করা সহজ হয়। সবাই তো আর একটা লম্বা সময় ধরে কাজ করতে পারেন না। এই পেশায় নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও পেশাদারত্ব থাকলে ভালো উপার্জন করা সম্ভবছবি: কবির হোসেনপ্রথম আলো : দেশ-বিদেশে অনেক র‍্যাম্পেই তো হেঁটেছেন। কোনটা আলাদা করে মনে পড়ে? প্রথমবার প্যারিস ফ্যাশন উইকে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আলাদা করে রাখব। যেহেতু এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি, আমি মনে করি, সব মডেলের কাছে এটা একটা স্বপ্নের মতো। যখন খবরটা পাই, আমি খুব খুশি হয়েছিলাম, আবার উদ্বিগ্ন লাগছিল। কিন্তু যখন সত্যিই গেলাম, সেটা স্বপ্নপূরণের মতো একটা ব্যাপার ছিল। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডিজাইনার গ্রেস মুনের পোশাক পরেই আমি দুবার হেঁটেছি প্যারিস ফ্যাশন উইকে। ২০২১ ও ২০২২ সালে। তিনিই আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে এর আগে আমরা দুজনই আমাদের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পোশাক নিয়ে ফ্যাশন শো করেছিলাম। প্যারিসে থাকার সময়ে বেশ কিছু ব্র্যান্ডেও কাজ করেছিলাম। এই অভিজ্ঞতাটাও বেশ বড় ছিল। প্রথম আলো : লম্বা সময় ধরে মডেলিং করছেন। এই পেশায় চ্যালেঞ্জের জায়গাগুলো কী কী? এই পেশা খুবই প্রতিযোগিতামূলক। এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রতিনিয়ত নতুন মেধা আসছে। সে অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। সাধারণত তরুণ বয়সটাতেই মডেলিং করা পড়ে। সে সময় আবার পড়াশোনা থাকে। সেটাও চালিয়ে নিতে হয়। আবার নিয়মিত র‍্যাম্পে হাঁটতে হয়, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে হয়। সে অনুযায়ী নিজের ফিটনেস, লুক, পোশাক—সবকিছু ঠিক রাখাটাও একটা চ্যালেঞ্জ। প্রথম আলো: র‍্যাম্প বা ফটোশুটের ক্ষেত্রে পোশাক বাছাইয়ের সময় আপনার নিজের পছন্দকে কতটা গুরুত্ব দেন? কোনো পোশাক মানাবে কি না, এটা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়? যখন ডিজাইনারের অধীনে থাকি, তখন তো অবশ্যই তাঁর কথা শুনতে হয়। সে ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় কত সুন্দরভাবে সেটা র‍্যাম্পে উপস্থাপন করতে পারি। ফটোশুটের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। কিন্তু আমি সব সময় দেখি ডিজাইনার এমন কাপড় দেয় যে আমি খুশি হয়ে যাই। এদিক থেকে আমি ভাগ্যবান। প্রথম আলো : ছেলে মডেলদের আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে কী দেখা হয়?প্যারিস, মিলান বা নিউইয়র্কের কথা চিন্তা করলে তো আমাদের বাজার অত বড় নয়। তবে সব জায়গাতেই কিছুটা মিল আছে। কারণ, ফ্যাশন মডেলদের বেছে নেওয়ার সময় দেখা হয় কে কতটা ভিন্ন, অন্যদের থেকে কতটা আলাদা। এখানে তাঁর লুক আর উচ্চতা প্রথমেই চলে আসে। ব্যক্তিত্ব আর বুদ্ধিমত্তা পরে তাঁকে অনেকটা এগিয়ে নেয় হয়তো। বাইরের দেশের এজেন্সিগুলোও প্রথমেই দেখে উচ্চতা কতটা। এরপর তাঁদের ফটোগ্রাফার দিয়ে লুক টেস্ট করে। কার চেহারা কতটা সুন্দর। তবে এখানেও সুন্দরের ভিন্ন অর্থ আছে। ব্যতিক্রম সেটার মূল আবেদন হিসেবে কাজ করে। মডেলিঙে ব্যক্তিত্ব আর বুদ্ধিমত্তা প্রয়োজনছবি: কবির হোসেনপ্রথম আলো : বাইরের দেশে সৌন্দর্যকে কোনো একটা কাঠামোতে ফেলছে না? এখানে কি এমন হয়? নাকি গতানুগতিক সৌন্দর্যই বেছে নেওয়া হয়? আমাদের এখানে অনেকটাই গতানুগতিক সৌন্দর্যের ধারাকে অনুসরণ করা হচ্ছে। সৌন্দর্যটাকে কিছুটা সীমাবদ্ধ পরিসরেই বিচার করা হয়। তবে এর বাইরেও আছেন যাঁরা ব্যতিক্রমী চেহারা এবং ধারাকে পছন্দ করেন। এটা আরও বড় পরিসরে হওয়া উচিত। এ বিষয়ে ডিজাইনারদের অনেক বড় একটা ভূমিকা থাকে।আরও পড়ুন৮৪ বছর বয়সেও যেভাবে ফিট আছেন দিলারা জামান১৯ আগস্ট ২০২৫প্রথম আলো: বাংলাদেশের সঙ্গে বাইরের মডেলিংয়ের পার্থক্য কী, কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? আমাদের এখানে কোনো কাঠামো গড়ে ওঠেনি। দেশের বাইরে যেকোনো মডেল বা ফটোগ্রাফার একটা এজেন্সির অধীনে কাজ করে। আমাদের এখানে এটি নেই। মডেলকে সবকিছু নিজে করতে হয়। এজেন্সি থাকলে তাঁর কাজটা সহজ হয়ে যেত। আর দেশ বা দেশের বাইরে কাজ তো একই। কিন্তু বাইরে কাজের পরিসরটা বড়। প্যারিস, মিলান, লন্ডন বা নিউইয়র্ক—সারা পৃথিবী থেকে সেখানে মডেলরা আসে। ফলে আমাদের চেয়ে সহজে ওরা ভালো কাজ বের করে আনতে পারে। প্রথম আলো : দেশে কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিকের বিষয়টি কি ঠিক আছে? পারিশ্রমিকের বিষয়টা শিল্পীর ওপর নির্ভর করে। তবে সামগ্রিকভাবে এটা আরও উন্নত করা যেতে পারে। ফটোশুটগুলোর পারিশ্রমিক বেশ ভালো। তবে র‍্যাম্পে আরও কাজ করার জায়গা আছে। কারণ, র‍্যাম্পে অনেক সময় দিতে হয়। বিশেষত, নতুনদের জন্য এটা হতাশা তৈরি করতে পারে। প্রথম আলো : মডেলিংয়ের পাশাপাশি পোশাক ব্যবসায়ও যুক্ত আছেন। আগে থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল? ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর দুই বছরের কোর্স করেছিলাম। ধারণা ছিল বিষয়টি নিয়ে। পাশাপাশি মনে হলো আমার যে নিজস্ব স্টাইল আছে, সেটাও তুলে ধরতে পারি পোশাকের মাধ্যমে। এসব ভাবনা থেকেই এ-জেড ব্র্যান্ডটি নিয়ে আসা। আরও পড়ুন৫১ বছর বয়সেও কাজল এত সতেজ ও আকর্ষণীয় আছেন কীভাবে১৬ জুলাই ২০২৬প্রথম আলো: নিজেকে ফিট রাখতে কী করেন?বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে সবাই বলত কোন জিমে যাই, অথচ আমি ব্যায়ামই করতাম না। আমার ক্ষেত্রে এটা কিছুটা জেনেটিক। তবে এখন এসে ব্যায়াম তো করতেই হয়। জিমে যাওয়ার সময় হয় না। পার্কে হাঁটি। বাসাতেই শরীরচর্চার জন্য ছোটখাটো ব্যবস্থা করে নিয়েছি। আর ডায়েট খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমার লাইফস্টাইল হয়ে গেছে যে যেটা দরকার না, ওইটা খাব না। অনেকের কাছে শুনি যে অনেক ধরনের ডায়েট অনুসরণ করেন। নতুনভাবে যাঁরা শুরু করছেন, তাঁদের হয়তো করতেই হয়। কিন্তু আমি অনেক দিন ধরেই একধরনের জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। ফিটনেসের বিষয়টির কারণে। বাইরের ভাজাপোড়া খাই না অনেক বছর। শেষ কবে সফট ড্রিংকস খেয়েছি, সেটাও খেয়াল নেই। হয়তো অনেক দিন পর কিছু একটা খাওয়া হয়ে যেতে পারে। যেমন বিরিয়ানি। এটা আমার পছন্দের খাওয়া। রাতে খাওয়া হলে ভাবনায় থাকে, পরদিন বেশি হাঁটতে হবে। বা পরদিন একটু হালকা খেতে হবে। অনেক জায়গায় গিয়ে তো আমাদের খেতেই হয়। অপশন থাকে না। কিন্তু সেটা যেন অভ্যাস না হয়ে যায়, সেই বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত। রাতের খাবার খেয়ে ফেলি সাতটার মধ্যে। যতটা হাঁটা যায়, হাঁটি। জীবনযাপনে ব্যায়াম করাকে গুরুত্ব দেনছবি: কবির হোসেনপ্রথম আলো : বিয়ের প্রায় আড়াই বছর হলো। র‍্যাম্প, শুটিং, ব্যবসা, পরিবার সবকিছু একসঙ্গে কীভাবে সামলান? সবকিছু মিলিয়ে বেশ ভালোই যাচ্ছে। আগে একটা চিন্তা ছিল যে বিয়ের পরে কাজটা কীভাবে কি হবে না হবে! আমি খুব বেশি পার্থক্য দেখি না। কাজের ক্ষেত্রে স্ত্রীর সহযোগিতা সব সময়ই পাই। আমরা দুজনেই ঘুরতে পছন্দ করি। রাতে ঢাকার মধ্যে বের হয়ে যাই। আবার হাতে সময় থাকলে অনেক সময় বাইরেও চলে যাই। এভাবেই সময় বের করে নিই। প্রথম আলো : সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে মডেল এবং ইনফ্লুয়েন্সারদের মধ্যে পার্থক্য প্রায় মিশে গেছে। আমি এটাকে খুবই ইতিবাচকভাবে দেখি। সম্ভাবনাময় ইন্ডাস্ট্রি হলেই তো সেখানে মানুষ আসে। আর নতুন মেধা না এলে ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠে না। নতুনেরা অনেক মেধাবী। আমার সবার সঙ্গেই কাজ করা হয়। ওদের সঙ্গে কাজ করে আনন্দ পাই। এই পেশায় প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়ছবি: কবির হোসেনপ্রথম আলো : প্রিয় মডেল, প্রিয় ডিজাইনারআমি যখন নিউমার্কেট থেকে ম্যাগাজিনগুলো কিনতাম, ব্রিটিশ মডেল ডেভিড গ্যান্ডিকে মুগ্ধ হয়ে দেখতাম। খুব ভালো লাগত। ব্যক্তিত্ব এবং ফ্যাশন ফিগার হিসেবেও তিনি খুব সম্মানিত ব্রিটেনে। আমাকে এ বিষয়গুলো খুব আকর্ষণ করেছিল। লন্ডন ফ্যাশন উইক দেখতে গিয়েছিলাম, বের হওয়ার সময় তাঁকে দেখেছিলাম। পুরোনো মডেলের একটা গাড়ি থেকে নামছিলেন। যাঁকে দেখে আমি মডেল হওয়ার অনুপ্রেরণা নিয়েছি, তিনি আমার সামনে। এ মুহূর্তটা খুব বিশেষ ছিল। ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে আলেকজান্ডার ম্যাককুইনের পোশাক খুব ভালো লাগে।আরও পড়ুনরুনা খান নিজেকে কীভাবে এত ফিট রাখেন, দেখুন ১১টি ছবিতে২৪ জুলাই ২০২৬প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুনস্টাইল থেকে আরও পড়ুনআয়জীবনযাত্রানকশাফ্যাশনফ্যাশন শোমডেল