খেলা

এখানে কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি—বিতর্কিত রানআউট নিয়ে লিটন দাস

March 14, 2026
1 month ago
By SAJ
এখানে কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি—বিতর্কিত রানআউট নিয়ে লিটন দাস

সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইও করতে পারেনি বাংলাদেশ। হারের ব্যবধানটা ১২৮ রানের। এরপরও এই ম্যাচটি আলোচিত হয়ে থাকবে সালমান আগার বিতর্কিত রানআউটের কারণে।

তাঁকে ওভাবে রানআউট করে মেহেদী হাসান মিরাজ ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ আচরণ করেছেন কি না, বিতর্ক সেটা নিয়ে। এ নিয়ে ক্রিকেট–বিশ্বই এখন দুই ভাগে বিভক্ত। বাংলাদেশ দলের উইকেটকিপার লিটন দাস বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

ঘটনার একটি অংশ লিটন নিজেও। সালমান আউট হওয়ার পর লিটনের সঙ্গে তাঁকে তর্কে জড়াতে দেখা গেছে। তখন উইকেটে সালমানের সঙ্গী মোহাম্মদ রিজওয়ান পরিস্থিতি শান্ত করেছেন। পুরো ঘটনা কাছ থেকে দেখা লিটন মিরাজের পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন।

ম্যাচ শেষে সম্প্রচারক টিভি চ্যানেলকে লিটন বলেন, ‘প্রথমত, এখানে কেউ চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি। এটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নিয়মে আছে আউট, এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ নষ্ট হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। যে যার ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারে। তবে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে আউট।’

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদও মিরাজের পক্ষেই কথা বলেছেন। পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেটার বলেছেন, ‘মিরাজ ভেবেছে তাকে রানআউট করবে। সে নিশ্চিত ছিল না সালমান কী করছে। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় না মিরাজ কোনো ভুল করেছে।’

ইনিংসের ৩৯তম ওভারের চতুর্থ বলে রিজওয়ানের শটে বল যায় বোলার মিরাজের দিকে। বোলার মিরাজ সেটি পা দিয়ে আটকান। এ সময় নন–স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যান সালমান ক্রিজের বাইরে ছিলেন। বলটি তাঁদের দুজনের পায়ের কাছেই ছিল। সালমান বলটি মিরাজের হাতে দিতে একটু ঝুঁকেছিলেন।

তবে সালমান বল ধরার আগেই মিরাজ বল নিয়ে স্টাম্পে মারেন এবং রানআউটের আবেদন করেন। মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত তৃতীয় আম্পায়ারের কাছে গেলে দেখা যায়, সালমান ক্রিজের বাইরে ছিলেন।

তবে মিরাজ যেভাবে সালমানকে রানআউট করেছেন, সেটা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি সালমান। আউট হয়ে গ্লাভস-হেলমেট ছুড়ে ফেলে সে কারণেই ক্ষোভ ঝেড়েছেন।

এমন ম্যাচে বাংলাদেশ অবশ্য লড়াইও করতে পারেনি। বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে মাত্র ১১৪ রানে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে জয়ের জন্য ৩২ ওভারে ২৪৩ রান করতে হতো বাংলাদেশকে। লিটন মনে করছেন, ৫০ ওভারের খেলা হলে অন্য কিছুও হতে পারত।

তাঁর ভাষায়, ‘উইকেট খুবই ভালো ছিল ব্যাটিংয়ের জন্য। এই উইকেটে ওদেরকে ২৭৪ রানে আটকে রাখা ভালো দিক ছিল। শুরুতেই উইকেট না হারালে পরিস্থিতি অন্য রকম হতো। কিন্তু ক্রিকেটে অনেক কিছু আপনার হাতে থাকবে না। কেউই জানতাম না বৃষ্টি আসবে, রান রেট এত বেশি করে দেবে। ৫০ ওভারের খেলা হলে অন্য কিছু হলেও হতে পারত।’

বাংলাদেশ ১৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়েছিল। ৬.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭ রান করার পর নেমেছে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টির কারণে প্রায় ২ ঘণ্টা ১৩ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।