গাড়ি পার্কিং নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা, ‘আমি কমিশনারের ভাগনে’ বলে যুবকের এলোপাতাড়ি গুলি
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে প্রকাশ্যে প্রাইভেট কার থেকে এক যুবকের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
তাৎক্ষণিকভাবে ওই যুবকের পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে এক তরুণী ছিলেন। গুলিবর্ষণের সময় ওই যুবক বলেন, ‘আমি কমিশনারের লোক।’ গালিগালাজ করে কয়েকটি গুলি করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানিয়েছেন। পরে ওই যুবক ও তরুণী গাড়ি চালিয়ে খুলনার দিকে চলে যান।
এ ঘটনার ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মহাসড়কের ওপর দাঁড় করানো একটি প্রাইভেট কারে চালকের আসনে বসে আছেন এক যুবক। তাঁর পাশের আসনে বসে আছেন এক তরুণী। গাড়িটির আশপাশে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় উত্তেজিত অবস্থায় ওই যুবক গালিগালাজ করতে করতে বাঁ পাশের (যে পাশে তরুণী বসা) জানালা দিয়ে মাথা বের করে মাটির দিকে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এ সময় আতঙ্কে আশপাশের লোকজন ছোটাছুটি শুরু করেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, এ রকম একটি ঘটনার কথা শুনেছেন। তখন তাঁদের থানার আশপাশে হাইওয়ে পুলিশের কোনো টহল ছিল না। পরে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু কোনো আলামত সংগ্রহ করতে পারেননি।
হাসান আমিন নামের প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক বলেন, প্রাইভেট কারে এক তরুণীকে নিয়ে ঢাকার দিক থেকে আসেন ওই যুবক। তাঁরা হাইওয়ে থানার সামনে মহাসড়কের ওপর গাড়িটি রাখেন। তখন স্থানীয় এক যুবক গাড়িটি মহাসড়কের পাশে রাখার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে গাড়িতে থাকা তরুণী নেমে এসে ওই ব্যক্তিকে থাপ্পড় মারেন। এতে স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হন। তখন অজ্ঞাত যুবক ‘আমি কমিশনারের ভাগনে’ পরিচয় দিয়ে গাড়ির ভেতরে গিয়ে ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করেন। এরপর গালাগাল করতে করতে গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন। এরপর গাড়ি চালিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দিয়ে গোপালগঞ্জের দিকে চলে যায়।
ভিডিওটি হাতে এসেছে বলে জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজওয়ান দিপু। তবে ভিডিওটি তাঁদের এলাকার কি না, সেটা আগে শনাক্তের চেষ্টা করছেন। ভাঙ্গার ঘটনা হলে দ্রুতই ওই যুবককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।