জীবনযাপন

গ্যাসের সংকটে রান্নাঘর সামলাবেন কীভাবে, বিশেষজ্ঞের ১০ পরামর্শ

July 26, 2026
2 months ago
By SAJ
গ্যাসের সংকটে রান্নাঘর সামলাবেন কীভাবে, বিশেষজ্ঞের ১০ পরামর্শ

মাংস, ডাল, ছোলা, আলু বা শক্ত দানাশস্য রান্নায় প্রেশার কুকার ব্যবহার করলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়। এতে রান্নার সময় যেমন কমে, তেমনি গ্যাসও কম লাগে।

রান্নার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে চাল, ডাল বা ছোলা দ্রুত সেদ্ধ হয়।সাধারণভাবে—

চাল: ২০–৩০ মিনিট

ডাল: ৩০–৬০ মিনিট

ছোলা বা বড় দানার শস্য: ৮–১০ ঘণ্টা

ছোট হাঁড়ি বা পাতিলে ছোট বার্নার ব্যবহার করুন। বড় হাঁড়ির জন্য ব্যবহার করুন বড় বার্নার।

শিখা যেন হাঁড়ির তলা ছাড়িয়ে বাইরে বেরিয়ে না যায়। অতিরিক্ত শিখার তাপ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা গ্যাসের অপচয় ঘটায়।

রান্নার সময় হাঁড়ির ঢাকনা লাগিয়ে রাখলে তাপ ভেতরে আটকে থাকে। এতে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং কম সময় গ্যাস জ্বালাতে হয়।

আলু, গাজর বা অন্যান্য সবজি ছোট টুকরা করলে তাপ দ্রুত ভেতরে পৌঁছায়। ফলে রান্নার সময় কম লাগে।

তবে অতিরিক্ত ছোট করে কাটলে কিছু সবজির পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী কাটাই ভালো।

প্রেশার কুকার বা স্টিমিং পদ্ধতিতে একই সঙ্গে একাধিক খাবার রান্না করা যায়।

যেমন নিচে ডাল, ওপরে চাল বা সবজি রেখে একবারেই কয়েকটি পদ তৈরি করা সম্ভব। এতে একই গ্যাসে একাধিক কাজ হয়ে যায়।

বার্নারের ছিদ্র ময়লা বা কালিতে আটকে গেলে গ্যাস ঠিকভাবে পোড়ে না।

শিখা যদি নীলের বদলে হলুদ বা কমলা রঙের হয়, তাহলে বার্নার পরিষ্কার করার প্রয়োজন আছে। পরিষ্কার বার্নারে গ্যাসের দহন ভালো হয় এবং রান্নাও দ্রুত হয়।

ভাত, খিচুড়ি, সেদ্ধ সবজি বা প্রেশার কুকারে রান্না করা ডালের মতো অনেক খাবার চুলা বন্ধ করার পরও কিছুক্ষণ নিজের তাপে রান্না হতে থাকে। তাই একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গ্যাস জ্বালিয়ে রাখার প্রয়োজন হয় না।

মাংস বা অন্যান্য হিমায়িত খাবার রান্নার কিছু সময় আগে ফ্রিজ থেকে বের করে রাখুন, যাতে স্বাভাবিকভাবে বরফ গলে যায়। এতে রান্নার সময় কিছুটা কম লাগে।

তবে কাঁচা মাংস দীর্ঘক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা উচিত নয়। প্রয়োজনের একটু আগে বের করাই নিরাপদ।

গ্যাস এলেই কী কী রান্না করবেন, তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন।

সবজি কেটে রাখা, মসলা বেটে রাখা এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ হাতের কাছে রাখলে গ্যাস আসার পর সময় নষ্ট হবে না।

একবারে কয়েক বেলার ডাল, ভাত বা মাংস রান্না করে নিরাপদভাবে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলেও বারবার চুলা জ্বালানোর প্রয়োজন কমে।

গ্যাসের অপেক্ষায় চুলার নব খুলে রাখবেন না।

গ্যাস এসেছে কি না দেখতে বারবার নব খুলবেন না।

খালি হাঁড়ি চুলায় বসিয়ে অপেক্ষা করবেন না।

বার্নারের শিখা হলুদ বা কমলা হলে সেটি ব্যবহার চালিয়ে যাবেন না; পরিষ্কার করুন বা পরীক্ষা করান।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত এলপিজি সিলিন্ডার ঘরের ভেতরে মজুত করে রাখবেন না।

গ্যাস সাশ্রয়ের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো রান্নার পরিকল্পনা করা, প্রয়োজন অনুযায়ী আঁচ ব্যবহার করা এবং অযথা তাপের অপচয় না করা। শুধু কম আঁচে রান্না করলেই গ্যাস বাঁচে না। সঠিক পাত্র, সঠিক বার্নার এবং সঠিক রান্নার পদ্ধতি ব্যবহার করলে একই পরিমাণ গ্যাসে আরও বেশি রান্না করা সম্ভব।

মোটকথা, গ্যাস সাশ্রয়ের সবচেয়ে বড় কৌশল হলো আগুনের উচ্চতা নয়, তাপের সঠিক ব্যবহার। শিখা যেন কখনোই হাঁড়ির তলা ছাড়িয়ে বাইরে না যায়।