আন্তর্জাতিক

হামলার অজুহাত খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

January 14, 2026
3 months ago
By SAJ
হামলার অজুহাত খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র: ইরান

ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অজুহাত তৈরির চেষ্টা করছে বলে গতকাল মঙ্গলবার অভিযোগ করেছে তেহরান।

ইরানজুড়ে চলা ব্যাপক বিক্ষোভে প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন চালানোর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার হুমকির পর তেহরান এ অভিযোগ তুলল।

জাতিসংঘের ইরানি মিশন গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কল্পনা ও নীতির পুরোটাই ‘ক্ষমতার পরিবর্তন’ ঘিরে। নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, পরিকল্পিত অস্থিরতা সৃষ্টি আর বিশৃঙ্খলা—সবই সেই কৌশলের অংশ। এসবের মাধ্যমে সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে।

পোস্টে ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের এই ‘কৌশল’ আবারও ব্যর্থ হবে।

২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে ইরানে। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিক্ষোভকারীরা ইরানে বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের সমর্থন জানানোর জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছে। ইরানে বড় বিক্ষোভ হয়েছে সরকারের সমর্থনেও।

চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গতকাল ইরানের একজন সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন। দুই সপ্তাহ ধরে চলা অস্থিরতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পর এই প্রথম ইরানের কর্তৃপক্ষ এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।

এর মাঝেই গতকাল নিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে অভিহিত করেন। বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প তাঁদের উদ্দেশে লেখেন, ‘সাহায্য আসছে।’

গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে ইরান এমনিতেই তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। এ বিক্ষোভে ‘অস্থিরতা উসকে দেওয়ার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে ইরান সরকার।