আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চীনের সাহায্য প্রয়োজন নেই—বললেন ট্রাম্প, হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার

May 13, 2026
3 weeks ago
By SAJ
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চীনের সাহায্য প্রয়োজন নেই—বললেন ট্রাম্প, হরমুজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ জোরদার

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে চীনের কোনো সহায়তার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন এক সময়ে তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরান নিজের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে।

বেইজিংয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আগে ট্রাম্প এ প্রতিক্রিয়া জানান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ইরান সংকট সমাধানে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সাহায্য নেওয়ার কোনো প্রয়োজন দেখছেন না তিনি।

এ চলমান দ্বন্দ্বের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, যা সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান বিষয়ে আমাদের কোনো সাহায্যের প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে হোক বা অন্য কোনোভাবে, আমরাই এই যুদ্ধে জয়ী হব।’

উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। তবে শত্রুতা অবসানের লক্ষ্যে কোনো স্থায়ী চুক্তির ক্ষেত্রে এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে শুরু করেছে। এ অঞ্চল থেকে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের জন্য দেশটি ইতিমধ্যে ইরাক ও পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্যান্য দেশও এখন ইরানের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি করার উপায় খুঁজছে। এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও স্বাভাবিক রূপ দিতে পারে।

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের আগে এ বিষয়ে দুই দেশের (চীন–যুক্তরাষ্ট্র) ঐকমত্য প্রকাশের চেষ্টা হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন গতকাল একটি তথ্য জানায়। তারা বলেছে, গত মাসে মার্কিন ও চীনা শীর্ষ কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন, কোনো দেশেরই এ অঞ্চল (হরমুজ প্রণালি) দিয়ে চলাচলকারী নৌযানের ওপর শুল্ক বা টোল আদায়ের অধিকার থাকা উচিত নয়।

চীন ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে এবং দেশটির তেলের এক বড় ক্রেতা। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ওই বক্তব্যের কোনো বিরোধিতা বেইজিং করেনি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ও পরশু শুক্রবার নির্ধারিত বৈঠকে সি চিন পিংয়ের সঙ্গে এ যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের একটি চুক্তিতে আসতে তেহরানকে রাজি করাতে চীনকে আহ্বান জানাবেন ট্রাম্প।

এ চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা ও হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে তেহরানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া।

ইরানও পাল্টা কিছু দাবি ছুড়ে দিয়েছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা অবরোধ প্রত্যাহার করা ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।

উল্লেখ্য, লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল ইরানের সমর্থনপুষ্ট হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তবে গত সোমবার ইরানের এ দাবিগুলোকে ‘আবর্জনা’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প।