আন্তর্জাতিক

ইরানকে একবার ‘সুযোগ দিতে’ ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে সৌদি, কাতার ও ওমান

January 16, 2026
3 months ago
By SAJ
ইরানকে একবার ‘সুযোগ দিতে’ ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে সৌদি, কাতার ও ওমান

ইরানে মার্কিন হামলা ঠেকাতে দেশটিকে আরও একবার ‘সুযোগ দেওয়ার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান। মধ্যপ্রাচ্যে ‘ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব’ পড়ার আশঙ্কায় উপসাগরীয় এই তিন দেশ সম্মিলিতভাবে এ প্রচেষ্টা চালায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি আরবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরান যাতে তার সদিচ্ছা প্রদর্শন করার সুযোগ পায়, সে জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাজি করাতে দীর্ঘ সময় ধরে শেষ মুহূর্তের মরিয়া কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে এ তিন দেশ।’ তিনি আরও বলেন, এই আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ইতিমধ্যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের দমন-পীড়নের জেরে মার্কিন হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় গত বুধবার কাতারের একটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোর কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইরানে সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের ব্যাপারে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তেহরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে বলছিল, হামলা হলে তারা ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও জাহাজে আঘাত হানবে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে।

তবে বেশ কয়েকবার কড়া হুমকির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেন। তিনি জানান, ‘অন্য পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ মাধ্যমে তিনি এ নিশ্চয়তা পেয়েছেন যে ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেবে না।

অনিচ্ছাকৃত ও অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি এড়াতেই উপসাগরীয় দেশগুলো এ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে বলে জানান সৌদি আরবের ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আমরা ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিলাম যে ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে এ অঞ্চলে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার পথ খুলে যাবে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এ অঞ্চলের আরও কিছু বড় বিপদ সামাল দিতে আমাদের একটি নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে। তৈরি হওয়া আস্থা এবং বর্তমান ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে এখনো যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরেকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনায় কোনো হামলা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম নিউজ নেশনের প্রতিবেদনের বরাতে আল–জাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের নির্দেশে দেশটির বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং এর সঙ্গে থাকা ‘স্ট্রাইক গ্রুপ’ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা শুরু করেছে।