বাংলাদেশ

জুবায়েরের অনুসারীরা মিথ্যাচার করছেন, বললেন সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা

September 13, 2026
1 month ago
By SAJ
জুবায়েরের অনুসারীরা মিথ্যাচার করছেন, বললেন সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা

ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীরা অভিযোগ করেছেন, মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা ক্রমাগত তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাঁরা বলেছেন, চলমান মামলায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের ‘খুনি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইজতেমার মাঠে মুচলেকা দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সাদ অনুসারীরা।

লিখিত বক্তব্যে সাদ অনুসারী তাবলিগের সাথি মো. শফিক বিন নাঈম বলেন, সরকার অনতিবিলম্বে তাঁদের ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করুক। ইজতেমা টঙ্গীর মাঠেই করতে চান তাঁরা। ইজতেমার তারিখ নিয়ে সারা বিশ্বের মুসলমানেরা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। দ্রুত তারিখ ঘোষণা করা হলে বিদেশি মেহমানদের ভিসা ও টিকিটের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

মুচলেকা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মো. শফিক বিন নাঈম বলেন, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখ সাদ অনুসারীদের টঙ্গীর মাঠে ইজতেমা করার কথা বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী তাঁরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। পরে তাঁদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে হঠাৎ একটি কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়। মাঠ বুঝিয়ে নেওয়ার শেষ মুহূর্তে কোনো সাথির কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়নি। মুচলেকা দেওয়ার পুরো বিষয়টি মিথ্যা ও একধরনের হঠকারিতা।

২০১৮ থেকে ২০২৪ সালে টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে সংঘর্ষ ও নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে শফিক বিন নাঈম বলেন, হামলার ঘটনায় তাঁদের দায়ী করা হচ্ছে। অথচ এসব ঘটনায় মামলা ও তদন্তও চলছে। তিনি বলেন, তাঁরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যাঁরা জড়িত, তাঁদের সুষ্ঠু বিচার তাঁরা চান। তবে বিচার শেষ হওয়ার আগে কাউকে খুনি হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। সরকার ও প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক, সেটিও তাঁরা চান।

বিদেশি মেহমানদের বিষয়টি তুলে ধরে মো. শফিক বিন নাঈম বলেন, প্রতিবছর তাবলিগের উদ্দেশ্যে ২০ থেকে ৩০ হাজার বিদেশি মেহমান বাংলাদেশে আসেন। এতে সরকারের রাজস্ব আয় হয়। টঙ্গীর ইজতেমা বাংলাদেশের পরিচিতির সঙ্গেও জড়িত। তাই ইজতেমার মাধ্যমে বাংলাদেশের যে সুনাম তৈরি হয়েছে, তা অক্ষুণ্ন রাখার কথা বলেছেন তাঁরা।

বিভিন্ন সময় সাদপন্থীদের নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যের বিষয়েও কথা বলেন শফিক বিন নাঈম। তিনি বলেন, তাঁরা কোনো আলেমের বিরুদ্ধে নন। ওলামায়ে কেরাম তাঁদের মাথার তাজ। তবে কোনো বক্তব্য দেওয়ার আগে তা যাচাই-বাছাই করার অনুরোধ করেন তিনি।

তাবলিগের বিরোধের পর জুলুমের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন শফিক বিন নাঈম। তিনি বলেন, দুই পক্ষ হওয়ার পর থেকেই তাঁরা সব সময় মজলুম হয়েছেন। তাঁরা ন্যায়বিচার ও সমতা চান। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে অন্য নাগরিকেরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পান, তাঁরাও তা চান। কোনো বৈষম্য চান না।

সংবাদ সম্মেলনে সাদ অনুসারীদের আরেক মুরব্বি মো. রেজাউল করিম বলেন, সরকার তাঁদের আশ্বস্ত করেছিল, ইজতেমার জন্য উপযুক্ত তারিখ জানানো হবে। কিন্তু এর মধ্যে গতকাল জুবায়েরপন্থীরা যেভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) আয়োজিত এক সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ভারতের মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে তওবা করার অনুরোধ জানান। পবিত্র কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা এবং নবী ও সাহাবিদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ তুলে তিনি এ অনুরোধ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইসলাম, নবুয়ত ও শরিয়তের বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে সাদ কান্ধলভী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে রেজাউল করিম বলেন, ওলামায়ে কেরামকে সামনে রেখে একটি পক্ষ পেছন থেকে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের খোঁজ নিয়ে দেখার অনুরোধ করে বলেন, এসবের পেছনে মাওলানা জুবায়ের ও তাঁর অনুসারীরা কলকাঠি নাড়ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা নুরুল ইসলাম, মুফতি ফয়েজুর রহমান, মুফতি বোরহান, অধ্যাপক মনজুরুল হক, অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন ভূঁইয়া, তারেক মাহমুদ, অধ্যাপক আবদুল হান্নান ও সাঈদ আহমেদসহ সাদ অনুসারীদের মুরব্বিরা উপস্থিত ছিলেন।