জ্বালানি ও মূল্যস্ফীতির দুই চাপে সংসার: খরচ সামাল দেবেন কীভাবে
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে পরিবহন খরচ বাড়ছে, এর ঢেউ লাগতে শুরু করছে নিত্যপণ্যের দামে। সামনে আরও দাম বৃদ্ধির শঙ্কা আছে। তাই এখনই খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি।
জ্বালানি খরচ বাড়লে পণ্য পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। আবার পণ্য ও সেবার খরচও বৃদ্ধি পায়। এসব প্রভাব পড়ে বাজারদরে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, মার্চ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও চড়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে মূল্যচাপ দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। এমন অবস্থায় সামনের দিনগুলোয় খরচের চাপ আরও বাড়বে। তাই এখনই হিসাব করে চলাই হতে পারে সীমিত আয় ও মধ্যবিত্ত পরিবারের টিকে থাকার সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।
এই খরচ সামাল দেওয়ার কিছু কৌশল জানা যাক—
১. খরচের খাতা আলাদা করুন
খাদ্য, জ্বালানি, যাতায়াত—এই তিন খাত আলাদা করে হিসাব রাখুন। কোথায় বেশি খরচ হচ্ছে, তা বুঝে কাটছাঁট করুন।
২. যাতায়াতে সাশ্রয়ী হোন
অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমান। সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার করুন। অফিস বা বাজারের কাজ একসঙ্গে সারলে খরচ কমে।
৩. রান্না ও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনুন
বাইরে (রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুড ইত্যাদি) খাওয়ার প্রবণতা কমান। সপ্তাহের বাজার পরিকল্পনা করে করলে অপচয় কম হয়।
৪. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা
গ্যাস, বিদ্যুৎ—দুটির ব্যবহারই নিয়ন্ত্রণে আনুন। কম সময় চুলা জ্বালানো, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ইলেকট্রনিক সামগ্রী ব্যবহার করুন। এই কৌশল বেশ কার্যকর।
৫. দাম বাড়ার আগে পরিকল্পিত কেনাকাটা
দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য পণ্য আগে কিনে রাখা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত মজুত না করে প্রয়োজন অনুযায়ী কিনুন। মাস বা সপ্তাহের বাজার একসঙ্গে করলে খরচ কিছুটা কমে।
৬. ঋণনির্ভরতা কমান
ক্রেডিট কার্ড বা কিস্তিতে কেনাকাটা সীমিত রাখুন। সুদের হার বাড়লে খরচের চাপ আরও বাড়বে।
৭. বিকল্প আয়ের পথ খুঁজুন
খরচ কমানোর পাশাপাশি আয় বাড়ানোও জরুরি। খণ্ডকালীন কাজ বা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাড়তি আয় করা যেতে পারে।
৮. জরুরি সঞ্চয় রাখুন
অপ্রত্যাশিত খরচ মোকাবিলায় ছোট হলেও একটি তহবিল গড়ে তুলুন।