বাংলাদেশ

কেন ধরা পড়ছে না ‘সন্ত্রাসী’ রায়হান, যা বলল র‌্যাব

September 15, 2026
1 month ago
By SAJ
কেন ধরা পড়ছে না ‘সন্ত্রাসী’ রায়হান, যা বলল র‌্যাব

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে আস্তানা গড়ে তোলা এবং ট্র্যাকিং (অবস্থান) এড়াতে বিদেশি প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়ায় চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হানকে ধরা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গতকাল সোমবার নগরের চান্দগাঁও ক্যাম্পে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় র‌্যাব-৭-এর নবনিযুক্ত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য জানান।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মূল হোতা রায়হানকে এখনো গ্রেপ্তার করতে না পারা বাহিনীর একটি আক্ষেপের বিষয়। রায়হান মূলত রাউজানের গভীর পাহাড়ি অঞ্চলকে নিজের মূল আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে। ওই দুর্গম এলাকায় গাড়ি নিয়ে দ্রুত যাতায়াতের কোনো পথ নেই, এমনকি সাধারণ মুঠোফোন নেটওয়ার্কও সেখানে পৌঁছায় না।’

হত্যা, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র আইনের ১৫টি মামলার আসামি রায়হান। বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি করে আসছেন তিনি। আবার চাঁদা না পেলে গুলিও করছেন তাঁর সহযোগীরা। বিদেশি পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী এই রায়হান। তবে সম্প্রতি তাঁর নাম ব্যবহার করে কিছু ‘ছিঁচকে সন্ত্রাসী’ চাঁদা দাবি করছেন বলে অভিযোগ রায়হানের।

র‍্যাব জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এবং স্থানীয় পাহাড়ি এলাকার পথঘাট চেনা থাকায় নিজের অবস্থান গোপন রাখতে পারছেন এই সন্ত্রাসী। প্রযুক্তিগত ও ভৌগোলিক কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও রায়হানের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য এসেছিল, সে সমতলে এসেছে। কিন্তু আমরা পৌঁছানোর আগেই সে স্থান পরিবর্তন করে ফেলে। তবে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে তাঁকে ধরতে একটি আলাদা বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা সার্বক্ষণিক এই কেস নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও যৌথভাবে মাঠে রয়েছে।’

অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিয়ে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায়হানসহ তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন র‍্যাব-৭-এর এই কর্মকর্তা।

হারানো সরকারি অস্ত্র-গুলির সন্ধান দিলে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে র‌্যাব। গতকাল র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত স্বেচ্ছায় ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব অস্ত্র বা গোলাবারুদের তথ্য দিলে তথ্যদাতার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য দিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে সহায়তা করলে নির্ধারিত হারে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে।

র‍্যাবের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাইফেল, সাবমেশিনগান (এসএমজি), লাইট মেশিনগান (এলএমজি) ও স্নাইপারের তথ্য দিয়ে তা উদ্ধারে সহায়তা করলে ২ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শটগান, পিস্তল ও গ্যাসগানের ক্ষেত্রে পুরস্কারের পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেলের তথ্যের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সব ধরনের গোলাবারুদের ক্ষেত্রে প্রতিটির জন্য ৫০ টাকা হারে পুরস্কার দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তাঁর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য দিলে আইনি সুরক্ষাও মিলবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-৭ সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্‌ফর হোসেন প্রমুখ।