জীবনযাপন

খাওয়ার পর পেটব্যথা কেন হয়, হলে কী করবেন? জানুন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে

September 9, 2026
1 month ago
By SAJ
খাওয়ার পর পেটব্যথা কেন হয়, হলে কী করবেন? জানুন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে

পেটব্যথার কারণ সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে খেয়াল রাখতে হবে বেশ কিছু বিষয়। যেমন কোন ধরনের খাবার খাওয়ার পর পেটব্যথা হচ্ছে, পেটের কোথায় ব্যথা হচ্ছে, ব্যথার সঙ্গে অন্য উপসর্গ আছে কি না, কী করলে ব্যথার উপশম হচ্ছে। তবে কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে, তা জানা থাকা খুবই জরুরি।

ব্যথা হলে শুরুতেই সেটির কারণ বোঝা না-ও যেতে পারে। প্রথমে ব্যথা কমানোর প্রাথমিক চেষ্টা করতে পারেন বাড়িতেই, যদি কোনো বিপদচিহ্ন না থাকে।

খাবার বাকি থাকলে সেটুকু আর না খাওয়াই ভালো।

কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। তবে খাওয়ার দু-তিন ঘণ্টা না পেরোলে শোবেন না, বসেই বিশ্রাম করুন।

খাওয়ার ১৫-২০ মিনিট পার হলে অল্প অল্প করে পানি খান, যদি তাতে ব্যথা না বাড়ে।

বদহজম হয়েছে মনে হলে তরলজাতীয় ‘গ্যাসের ওষুধ’ খেতে পারেন।

বমি বা পাতলা পায়খানা হলে ওরস্যালাইন খাবেন।

নিজ থেকে আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন বা অন্যান্য এনএসএআইডি (নন স্টেরয়ডাল অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ) খাবেন না।

ব্যথা কমলেও অল্প পরিমাণে খাওয়া শুরু করবেন। ধীরেসুস্থে, চিবিয়ে খাবেন। যে খাবারে ব্যথা হয়েছে, তা আপাতত এড়িয়ে চলুন।

প্রায়ই ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বদহজম

ভাজাপোড়া ও তেলচর্বিজাতীয় খাবার কিংবা অতিরিক্ত পরিমাণে যেকোনো খাবার খাওয়ার পর ব্যথা হয়।

পেট জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা, ‘গ্যাস’ ভাব বা টক ঢেকুর হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য

খাবার খাওয়ার পর ব্যথা এবং পেট ভারী লাগার মতো সমস্যা হতে পারে।

গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি)

খাওয়ার পর পেটব্যথা ও বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে।

পেপটিক আলসার কিংবা গ্যাস্ট্রাইটিস

সাধারণত তেলমসলা–জাতীয় খাবার খাওয়ার পর কিংবা মানসিক চাপে ভুগলে ব্যথা বাড়ে।

বমি ভাব বা বমি কিংবা কালচে মলও হতে পারে।

পিত্তথলি বা গলব্লাডারে প্রদাহ বা পাথর

তেল-চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার পর ব্যথা হয়।

পেটের ওপরের অংশে (কিংবা ওপরে, ডান দিকে) প্রচণ্ড ব্যথা হয়। ছড়াতে পারে পিঠের দিকেও।

বমি ভাব বা বমি কিংবা জ্বর হতে পারে।

অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াস) প্রদাহ বা অগ্ন্যাশয়ের নালিতে পাথর

অগ্ন্যাশয়ের রোগে যেকোনো খাবার, বিশেষত ভারী খাবার খেলে ব্যথা হতে পারে।

পেটের ওপরের অংশে ব্যথা শুরু হলেও বুক বা পিঠের দিকে ব্যথা ছড়াতে পারে।

বমি ভাব বা বমি এবং ক্ষুধামান্দ্যও থাকতে পারে।

ফুড পয়জনিং (খাদ্যে বিষক্রিয়া)

ব্যথা ছাড়াও বমি ভাব বা বমি।

পেট ফাঁপা।

পাতলা পায়খানা কিংবা জ্বর থাকতে পারে।

ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স ও খাবারে অ্যালার্জি

ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে দুধ বা দুধের তৈরি খাবার খাওয়ার পর ব্যথা হয়।

বমিভাব বা বমি, ‘গ্যাস’ ভাব কিংবা পাতলা পায়খানাও হতে পারে।

অ্যালার্জি থাকলে দুধ কিংবা অন্য কোনো খাবারে (যেমন বাদাম) খেলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।

এ ছাড়া ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি, এমনকি শ্বাসকষ্টও হতে পারে।

ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (আইবিএস)

নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়ার পর কিংবা মানসিক চাপে ভুগলে ব্যথা শুরু হয় বা বাড়ে।

পেট ফাঁপা, ‘গ্যাস’ ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পাতলা পায়খানাও হতে পারে।

হঠাৎ শুরু হওয়া খুব তীব্র ব্যথা কিংবা ক্রমেই বাড়ছে, এমন ব্যথা।

একই সঙ্গে বুক, ঘাড় বা কাঁধে ব্যথা; বুকে তীব্র চাপ বা শ্বাসকষ্ট (এ ধরনের উপসর্গ হার্ট অ্যাটাকেও হতে পারে)।

ব্যথার সঙ্গে মাথা ঘোরা।

রক্তবমি, কালো পায়খানা বা পায়খানায় রক্ত যাওয়া।

প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া।

পেট ফোলা এবং স্পর্শ করলে ব্যথা হওয়া।

পায়খানা বা পায়ুপথে গ্যাস যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া।

অতিরিক্ত জ্বর।

ক্রমাগত বমি ভাব বা বমি।

প্রায়ই গিলতে সমস্যা বা গলার নিচে খাবার আটকে আছে মনে হওয়া।

অনিচ্ছাকৃতভাবে ওজন কমা।

বারবার ওষুধ খেয়ে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হওয়া।

বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাওয়ার পর পেটে তীব্র ব্যথা (অন্ত্রে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে হতে পারে)

কোনো দুর্ঘটনা বা আঘাতের পর ব্যথা শুরু হওয়া।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথার সঙ্গে খাবারের সরাসরি যোগসূত্র নেই। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা যেকোনো সময় শুরু হতে পারে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসে সাধারণত নাভির চারপাশে ব্যথা শুরু হয়ে পরে তলপেটের ডান দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুধামান্দ্য, বমি ভাব কিংবা বমিও হতে পারে। কিছু খেলে সমস্যা বাড়তে পারে।

এটি একটি জরুরি পরিস্থিতি। তাই বিষয়টি খেয়াল রাখা প্রয়োজন।