খেলা

খেলোয়াড়দের মুঠোফোন জব্দের খবর প্রকাশের পর তদন্তে পিসিবি

September 7, 2026
1 month ago
By SAJ
খেলোয়াড়দের মুঠোফোন জব্দের খবর প্রকাশের পর তদন্তে পিসিবি

ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান জাতীয় দলের শৃঙ্খলা ও আচরণসংক্রান্ত খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলামূলক তদন্ত শুরু করেছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির উপদেষ্টা আমির মীর এক্সে (সাবেক টুইটার) করা একটি পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বোর্ডের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পিসিবি জানিয়েছে, তদন্তপ্রক্রিয়া চলাকালে সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুনানির সুযোগ দেওয়া হবে। এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হয়নি বোর্ড। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে শুধু বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপর ভরসা রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া অনুমাননির্ভর খবর, বিশেষ করে শত্রুভাবাপন্ন সূত্র থেকে আসা তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে তা বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন আমির মীর।

আমির মীরের পোস্টে বলা হয়, ‘সংবাদমাধ্যমে শৃঙ্খলভঙ্গ ও আচরণসংক্রান্ত নানা খবর আসার পর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলামূলক তদন্ত শুরু করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিষয়টি বর্তমানে তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

লন্ডনে পাকিস্তান দলের দুজন খেলোয়াড়ের মুঠোফোন দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজের হেফাজতে নিয়েছিলেন—এমন খবর প্রকাশের পরই পিসিবি এই তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘জিও সুপার’।

পাকিস্তানেরই আরেকটি সংবাদমাধ্যম ‘৩৬৫ নিউজ’ জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের ফোনগুলো পিসিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এজবাস্টনে টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো বোর্ডের কাছেই থাকবে। তবে প্রতিবেদনটিতে যেসব খেলোয়াড়ের ফোন নেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

অসমর্থিত সূত্রের বরাত দিয়ে জিও সুপার জানিয়েছে, লন্ডনে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং যোগাযোগ, বিশেষ করে কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের কথিত যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, অনিয়মের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে জরিমানা কিংবা নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে খেলোয়াড়দের ফোন জব্দ করা বা সেগুলোর তথ্য পরীক্ষা করার অভিযোগগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পিসিবি।

ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের শোচনীয় হারের পর দলটির কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। সাতজন খেলোয়াড়কে সফরের মাঝপথে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। বদলি সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন। সরিয়ে দেওয়া হয় টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও পেস বোলিং কোচ উমর গুলকেও। সীমিত ওভারের দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং বোলিং কোচ অ্যাশলে নফকে দেওয়া হয় টেস্ট দলের দায়িত্ব। নির্বাচক পদ থেকেও সরে দাঁড়ান মিসবাহ–উল–হক। বড় ধরনের এসব পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এই অভ্যন্তরীণ তদন্তের পদক্ষেপ নিল পিসিবি।

তবে ঠিক কী ধরনের শৃঙ্খলভঙ্গের ঘটনার তদন্ত চলছে বা কোন কোন খেলোয়াড় এতে জড়িত, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি বোর্ড। অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।