খুলনায় বিশেষ অভিযানে ‘গ্রেনেড বাবু’র দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার ৫৯
খুলনা নগরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি দমনে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) বিশেষ যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। এ অভিযানের অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার বিভিন্ন অপরাধে ৫৯ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে মহানগর পুলিশ।
কেএমপি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’র সহযোগী হিসেবে পরিচিত কসাই লিটন ও রিফাতও রয়েছেন।
আজ বিকেলে খুলনা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) যৌথ অভিযান চালায়। এতে খুলনা থানা এলাকা থেকে ১৩ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা থেকে ১৩ জন, লবণচরা থানা থেকে ৬ জন, হরিণটানা থানা থেকে একজন, খালিশপুর থানা থেকে ১৬ জন, দৌলতপুর থানা থেকে ৮ জন এবং ডিবি পুলিশ ২ জনকে গ্রেপ্তার করে।
খুলনায় অপরাধের বেশির ভাগ ঘটনায় ঘুরেফিরে নয়টি সন্ত্রাসী গ্রুপের নাম এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা ও অদক্ষতার সুযোগেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো শক্তিশালী হয়েছে। এ নিয়ে আজ প্রথম আলোয় ‘তারা প্রকাশ্যে খুন করে, প্রচারণা চালায়, দোয়া চায় ফেসবুকে’ শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খুলনার সাম্প্রতিক অপরাধজগতে সবচেয়ে আলোচিত নাম গ্রেনেড বাবু। তাঁর আসল নাম রনি চৌধুরী ওরফে বাবু। তিনি সন্ত্রাসী গ্রুপটির নাম দিয়েছেন ‘বি-কোম্পানি’। এখন তারা এতটাই বেপরোয়া যে জনবহুল এলাকায়ও খুনোখুনি করতে দ্বিধা করছে না। মানুষও প্রতিরোধে এগিয়ে আসা বা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করে না। খুলনা মহানগরের বিভিন্ন থানায় গ্রেনেড বাবুর নামে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মারধরসহ বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ১৭টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় সন্ত্রাসী, মাদক বিক্রেতা ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত বুধবার কেএমপি সদর দপ্তরে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অপরাধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কেএমপি, গোয়েন্দা পুলিশসহ অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিটের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাব্বিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বুধবার রাত থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত কেএমপির দক্ষিণ বিভাগের পৃথক অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই অভিযানে একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং ১১টি মোটরসাইকেল ও ১টি পিকআপ জব্দ করা হয়েছিল।
কেএমপি জানিয়েছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া, ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।