জীবনযাপন

মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বছরে কয়টি ট্যুরে যেতে হবে আপনাকে? দেখুন গবেষণা কী বলছে

December 6, 2025
4 months ago
By SAJ
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বছরে কয়টি ট্যুরে যেতে হবে আপনাকে? দেখুন গবেষণা কী বলছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরে কয়েকবার ভ্রমণ কোনো বিলাসিতা নয়; বরং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এটি দারুণ এক ডিটক্স। সারা বছর কাজ করতে করতে আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রতিদিনের নিয়ম, চাপ, ডেডলাইন সবকিছুর মাঝে মাথা যেন একসময় বিশ্রাম চাইতেই বাধ্য হয়। আর সেই প্রয়োজনীয় ‘ব্রেক’-ই দিতে পারে ছোট ছোট ভ্রমণ। গবেষণা অনুযায়ী, আপনি যখন রুটিন ভেঙে একটু দূরে কোথাও যান হোক সেটা পাশের শহরের এক বিকেলের হাঁটা, কিংবা মাত্র দুই দিনের ছোট উইকএন্ড ট্রিপ তখন শরীর ও মস্তিষ্ক নতুনভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ যেন মস্তিষ্কের রিসোর্ট বাটনে আলতোভাবে চাপ দেওয়া।

ধরুন, আপনি ঢাকার অদূরে কোথাও একদিনের জন্য ঘুরে এলেন। ফিরে এসে দেখবেন—   কাঁধের চাপ হালকা হয়ে গেছে , মনোযোগ বেড়ে গেছে, মানসিক ক্লান্তি অনেকটাই কম, মন মেজাজ ভালো যাচ্ছে, নতুন করে এনার্জি ফিরে পাচ্ছেন। এই পরিবর্তনগুলো এতটাই শক্তিশালী যে গবেষকদের মতে, বছরে সাতটি ছোট ভ্রমণ মানেই আপনার মনকে সাতবার টিউনিং করা। ভ্রমণ মানে শুধু বিদেশযাত্রা নয় বরং পরিচিত গণ্ডি থেকে একটু দূরে সরে যাওয়া

এই গবেষণার সবচেয়ে বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো ভ্রমণের জন্য বিদেশে যাওয়ার দরকার নেই, লাগবে না বড় বাজেটও। শুধু ব্যস্ত জীবনের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির কাছে একটু সময় কাটানোই যথেষ্ট।

৩০-৪০ কিলোমিটার দূরের কোনো নদী বা লেকে একদিনের ঘোরাঘুরি হালকা বাতাস, নদীর ধারে হাঁটা মনকে দ্রুত রিল্যাক্স করে।

অনেক দিন দেখা হয়নি এমন বন্ধুর সঙ্গে শহর ঘোরা। মনে রাখবেন মানসিক সুস্থতার জন্য সামাজিক সংযোগ অত্যন্ত জরুরি।

এক রাতের জন্য রিসোর্ট বা কটেজে থাকা। মাঝে মাঝে নিজের জন্য সময় রাখা মানেই সেলফ-কেয়ার।

নতুন কোনো শহর বা এলাকায় হাঁটতে হাঁটতে এক্সপ্লোর করা। পরিচিত পরিবেশ বদলে গেলে মস্তিষ্কে নতুন এনার্জি আসে।

কাছের এলাকায় ক্যাফে-হপিং বা স্থানীয় খাবার চেখে দেখা। গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল অল্প দূরত্বে অনেক সুন্দর জায়গা আছে ।

পরিবারকে নিয়ে হঠাৎ একটি লং ড্রাইভে যেতে পারেন। যা পারিবারিক সময় মানসিক শান্তি বাড়ায় বহুগুণে।

একটি ছোট্ট ট্রিপ মানে আপনার মনকে আবার জাগিয়ে তোলা। এতে খরচ কম আর সময় লাগে কম।

অনেকেই মনে করেন “ছুটি নিলে কাজ জমে যাবে।” “সময় নেই।” ভ্রমণ মানেই খরচ।”এগুলো অজুহাত ছাড়া কিছুই না। এই ভাবনাই মানুষকে ক্রমশ ক্লান্ত করে, মেজাজ করে অনিয়ন্ত্রিত, মানসিক চাপ বাড়ায়। গবেষণা বলছে বিরতি না নিলে মানুষ নিজেই বুঝতে পারে না যে তার মানসিক স্বাস্থ্যে কতটা ক্ষতি হচ্ছে। মনে রাখবেন বিরতি বিলাসিতা নয়; প্রয়োজন। আপনার মনে হতে পারে, এক দিনের জন্য বাইরে যাওয়া কী-ই বা পরিবর্তন আনবে?

কিন্তু গবেষকরা বলেন মানুষের মস্তিষ্ক নতুন জায়গা দেখলেই ডোপামিন বাড়ে, স্ট্রেস কমে, এবং মনোযোগ শক্তি বাড়ে।

মানসিক চাপ কমে

সৃজনশীলতা বাড়ে

কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে

সম্পর্কের বন্ধন উন্নত হয়

‘লাইফ ইজ বিগার দ্যান ওয়ার্ক’ এই অনুভূতি জেগে ওঠে

গবেষকেরা বলছেন সাতটি ট্রিপ মানে আপনার ‘মানসিক ইনস্যুরেন্স’ আমরা ফোন চার্জ দিতে ভুল করি না, কিন্তু নিজের মনকে চার্জ দেওয়ার কথা ভুলে যাই। এই নতুন গবেষণা যেন সেই ভুলটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।

বছরে সাতটি ছোট ভ্রমণ মানে,সাতবার খুশি হওয়া,সাতবার মন পরিষ্কার করা, সাতবার জীবনের প্রতি নতুন করে ফিরে আসা।

জীবন শুধু কাজের জন্য নয় জীবন উপভোগ করার জন্যও। কাজ, দায়িত্ব, লক্ষ্য সব ঠিক আছে। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে করিয়ে দিন আপনি বেঁচে আছেন। আর বেঁচে থাকার অর্থ হলো নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়া।

সূত্র: এক্সপ্লোর, ট্র্যাভেল হাব

ছবি: পেকজেলসডটকম