মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইউক্রেনকে সহায়তা ও রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল পাস
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ইউক্রেনকে নতুন করে সহায়তা দেওয়া ও রাশিয়ার ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল পাস হয়েছে। এ ঘটনা রিপাবলিকান পার্টির মধ্যকার বিরোধকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও এটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা।
গতকাল বৃহস্পতিবার পরিষদে ইউক্রেন সাপোর্ট অ্যাক্ট নামে বিলটি ২২৬-১৯৫ ভোটে পাস হয়। বিলটি কয়েক মাস ধরে আটকে ছিল। অবশেষে কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে একটি বিশেষ আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করলে এটি ভোটাভুটির জন্য উত্থাপন করা সম্ভব হয়।
চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে ১৮ জন রিপাবলিকান ও ১ জন স্বতন্ত্র সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দেন।
সাধারণত ট্রাম্পের যেকোনো নীতিমালার পক্ষে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদের সর্বসম্মত সমর্থন থাকে। তবে সম্প্রতি সেই একচ্ছত্র সমর্থনে চিড় ধরতে শুরু করেছে। নতুন বিলটি পাস হওয়ার ঘটনা এরই সর্বশেষ ইঙ্গিত।
বিলটি পাস হওয়ার এক দিন আগেই প্রতিনিধি পরিষদে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়। সেখানেও কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়ে প্রস্তাবটি পাস করেন। এ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না করলে বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন না দিলে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
তবে ইউক্রেন সাপোর্ট অ্যাক্টের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। আইনে পরিণত হতে হলে বিলটি সিনেটে পাস হতে হবে। কিন্তু সিনেটে রিপাবলিকান নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কোনো বিল ভোটে তোলার অনুমতি দেয়নি। যদিও এ উদ্যোগে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক—দুই পার্টিরই ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা বলছেন, এ বিষয়ে তাঁরা ট্রাম্পের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন।
বিলটি সিনেটে পাস হলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করার পর প্রথম কয়েক বছর কংগ্রেসে দুই দলের অনেক সদস্যই ইউক্রেনকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছিলেন। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান মিত্রদের একটি অংশ ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
এ ছাড়া দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতাও ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন; এ বিষয়ে তিনি কংগ্রেসকে বড় কোনো ভূমিকা দিতে চাননি।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ অব্যাহত থাকলেও কিয়েভ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। শান্তি আলোচনাও কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের যেসব এলাকা দখল করেছে, সেগুলোর মধ্যে কিছু এলাকা (কিয়েভকে) ছেড়ে দিতে হবে। ইউক্রেন এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইউক্রেন সাপোর্ট অ্যাক্টে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনে ইউক্রেনকে সহায়তার বিভিন্ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিলটিতে কিয়েভকে ১০০ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া সরাসরি ঋণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৮০০ কোটি ডলার পর্যন্ত সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও দেশটির রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আওতায় দেশটির আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তেল ও খনিশিল্প খাত এবং রুশ কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।