আন্তর্জাতিক

মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার জেরে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রীর পদত্যাগ

December 16, 2025
4 months ago
By SAJ
মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার জেরে পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রীর পদত্যাগ

বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির কলকাতার অনুষ্ঠান ঘিরে সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির ঘটনায় রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস পদত্যাগ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার রাজ্য সরকার অরূপের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিয়েছেন। অরূপ বিশ্বাস ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি যুবকল্যাণ, আবাসন ও বিদ্যুৎমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি শুধু ক্রীড়ামন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিয়েছেন। অন্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফুটবলার মেসিকে নিয়ে অবাঞ্ছিত ঘটনার জন্য স্তম্ভিত ও বিচলিত বলে জানিয়েছিলেন। এই অনভিপ্রেত ঘটনা তদন্তের জন্য তিনি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি মেসি এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

এ ঘটনার পর রাজ্যব্যাপী ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের পদত্যাগের দাবি ওঠে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অরুপ বিশ্বাস গতকাল পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। রাজ্য সরকার সেই ইস্তফার আবেদনে সাড়া দিয়ে আজ তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে।

গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন বা সল্টলেক স্টেডিয়ামে ঢোকে মেসির গাড়ি। এরপর তাঁকে একনজর দেখতে ভিড় জমে যায়। সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা। এ সময় ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রাচীর ভেঙে মেসিপ্রেমীরা মাঠে ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠে নামানো হয় র‌্যাফ। এ সময় ক্ষুব্ধ অনেকে গোলপোস্টের জাল ছিঁড়ে ফেলেন, ভেঙে ফেলেন সাজঘরে যাওয়ার টানেলের ছাউনি। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে স্টেডিয়ামের বাইরেও।

একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। যদিও এ সময় মেসিকে ঘিরে রাখেন মন্ত্রী, নেতা ও কর্মকর্তারা। একজন ভক্ত চিৎকার করে বলতে থাকেন, ৫ হাজার রুপির টিকিট কেটে কি পুলিশের মার খেতে এলাম? অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে কলকাতার পুলিশ ওই দিনই গ্রেপ্তার করেছে।

এ ঘটনার পর এই অব্যবস্থার দায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা, ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস ও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ ঘটনার নিন্দা জানায়।