খেলা

মেসির সঙ্গে সম্পর্কে ফাটলেই কি পদত্যাগ করেছেন মাচেরানো

April 19, 2026
1 hour ago
By SAJ
মেসির সঙ্গে সম্পর্কে ফাটলেই কি পদত্যাগ করেছেন মাচেরানো

ইন্টার মায়ামির ড্রেসিংরুম মানেই তো এক টুকরো বার্সেলোনা। যেখানে লিওনেল মেসি আছেন, আছেন তাঁর পুরোনো সতীর্থরা। কিন্তু সেই চেনা আঙিনায় সব সময় কি আর একই সুরের মূর্ছনা থাকে? কখনো কখনো সেখানেও বেজে ওঠে বিচ্ছেদের সুর।

যেমনটা ঘটল হাভিয়ের মাচেরানোর বেলায়। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি ইন্টার মায়ামির কোচের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মাচেরানো। কিন্তু পর্দার আড়ালে কি শুধুই ব্যক্তিগত কারণ, নাকি অন্য কোনো নাটকীয়তা?

গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক রেড বুলসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর খবর অনুযায়ী, সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন মাচেরানো। যদিও ক্লাব বলছে ‘ব্যক্তিগত কারণ’, কিন্তু ফুটবল দুনিয়ায় গুঞ্জন, আসল কারণটা লুকিয়ে আছে ড্রেসিংরুমের সেই মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশে।

আসলে অশান্তির শুরুটা আরও আগে। কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ ষোলো থেকে ন্যাশভিলের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল মায়ামি। যে দলকে গত মৌসুমে অনায়াসে হারিয়েছিল তারা, তাদের কাছে এমন হার মেনে নিতে পারেনি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকেই ড্রেসিংরুমে একটা গুমোট ভাব ছিল। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’ জানিয়েছে, মাচেরানোর বিদায়ের পেছনে এই ব্যর্থতার দায়ও কম নয়।

লিওনেল মেসি ও হাভিয়ের মাচেরানো—দুজনের সম্পর্কটা বহু বছরের। বার্সেলোনা থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল, সুখে-দুখে তাঁরা একে অপরের ছায়া হয়ে ছিলেন। কিন্তু কোচ আর খেলোয়াড়ের সম্পর্কের রসায়নটা বোধ হয় একটু আলাদা। লক্ষ্য পূরণে দুজনই আপসহীন। সূত্র বলছে, প্রায়ই তাঁদের মধ্যে তপ্ত আলোচনা বা বিতর্ক হতো। তবে সেটা মাঠের ফুটবলের স্বার্থেই। মাচেরানো কখনোই মেসিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ভয় পেতেন না। কিন্তু দিন শেষে চাপের পাহাড়টা যখন আকাশচুম্বী হয়, তখন পুরোনো বন্ধুত্বও কি সব সময় ঢাল হতে পারে! মাচেরানো সম্পর্কের ফাটল নাকি আর বাড়াতে চাননি। তাই চাকরিই ছেড়ে দিয়েছেন।

ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর মেসির সাফল্য ঈর্ষণীয়। ২০২৩ সালে লিগস কাপ, ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ড এবং ২০২৫ সালে এমএলএস কাপ—সবই এসেছে তাঁর জাদুকরি ছোঁয়ায়। টানা দুই বছর লিগের সেরা খেলোয়াড় (এমভিপি) হয়েছেন। কিন্তু সাফল্যের পাশাপাশি মেসির মেজাজটাও ইদানীং বেশ চড়া। প্রতিপক্ষের কোচ বা রেফারিদের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়াটা যেন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক সিটির সহকারী কোচ মেহদি বালুচির সঙ্গে উত্তপ্ত আচরণের জন্য জরিমানাও গুনতে হয়েছে তাঁকে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ মেসি অবসরের পর এই ক্লাবের অন্যতম মালিকও হতে যাচ্ছেন। ফলে মায়ামিতে তাঁর প্রভাব এখন প্রশ্নাতীত।

মাচেরানো চলে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন গুইলারমো হয়োস। একাধিক সূত্রের মতে, হয়োসকে বেছে নেওয়ার পেছনে বড় কারণ—মেসির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। মেসি তাঁকে নিজের ‘ফুটবল পিতা’র মতো মনে করেন। ক্লাবের ভেতর গুঞ্জন আছে, হয়োস এমন একজন মানুষ, যিনি মেসিকে কখনোই ‘না’ বলেন না।

আপাতত ৩ জয়, ১ ড্র ও ৩ হার নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সে তৃতীয় স্থানে আছে ইন্টার মায়ামি। আগামী শনিবার কলোরাডো র‍্যাপিডসের বিপক্ষে মাচেরানো-পরবর্তী যুগে যারা প্রথমবার মাঠে নামবে।