মিম শুটিংয়ের ফাঁকে বিশ্বটাকে দেখতে চান
‘বছরের শুরুতেই আপনার ফেসবুকজুড়ে মালদ্বীপ ঘোরাঘুরির ছবি...’ প্রশ্ন শেষ করার আগেই মিম জানালেন, অনেক আগে থেকেই তাঁর ঘোরাঘুরির খুব শখ। ‘শুধু এখন না, লাক্স সুপারস্টার হওয়ার পর থেকেই বহু দেশে গিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমার মিডলইস্ট ঘোরা শেষ। এশিয়া–ইউরোপের কিছু দেশ বাদ আছে। লাতিন আমেরিকা ঘুরতে চাই। আমার টার্গেটই সব দেশ ঘোরা। একটাই কথা, কাজ করব আর ট্রাভেল করব। এটাই আপাতত প্ল্যান।’ জানালেন, অনেক সময় নতুন চরিত্রে প্রবেশের আগে রিফ্রেশ হওয়ার জন্যও ঘোরাঘুরি করেন।
পরিকল্পনায় ইউরোপ ও চীনপ্রতিবছরের শুরুতেই কোথায় ঘুরতে যাবেন, তাঁর আলাদা একটি তালিকা করেন মিম, ‘এবার ইউরোপে যাওয়া পরিকল্পনা করছি।’ তালিকায় রয়েছে ইউরোপের একাধিক দেশের নাম। পরিকল্পনায় আরও আছে চীন। মিম জানালেন, ‘চীন দেখা আমার অনেক দিনের ইচ্ছা।’ আগামী ঈদে চীন যাবেন, এটা নিশ্চিত। পরের ঈদে হয়তো ইউরোপ ঘুরতে যাবেন। স্বামী সনি পোদ্দারকে নিয়ে ঘুরতে চান। ‘প্রতিটা দেশের আলাদা সংস্কৃতি, ভাষা, খাবার আলাদা। একটা গণ্ডির মধ্যে থাকলে নিজেকে চেনা যায় না। গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকতে চাই না। নতুন নতুন কিছু এক্সপ্লোর করতে চাই।’
বরফচূড়ায় ৬ দিনআগে কখনোই বরফের চূড়ায় যাননি মিম। ইয়েতি অভিযান ছবির শুটিংয়ে সেই ইচ্ছাও পূরণ হয়েছে। মাইনাস ডিগ্রিতে শুটিং করেছিলেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয় দিন কাটে সেই বরফের পাহাড়ে। ঘোরাঘুরির মধ্যে এটা তাঁর কাছে এখনো সেরা অভিজ্ঞতা। ‘ঘুরতে গেলে কী হয়, ঘুরে চলে আসি। কিন্তু শুটিংয়ের কারণে একই জায়গায় ছয় দিন থাকাটা একই সঙ্গে ভয়ের ও রোমাঞ্চকর। বরফের কারণে চিন্তা হচ্ছিল। সারা দিন থাকতে পারব কি না, আলাদা পোশাক নিয়েও ভাবতে হয়। পরে বরফের মধ্যে নানা রকম অ্যাকটিভিটি ছিল, সেগুলো করতে গিয়ে দারুণ আনন্দ পেলাম। হয়তো বরফের মধ্যে ছয় দিন থাকলে এই অভিজ্ঞতা হতো না।’
সংসারী মিমকদিন আগেই মিমের বিয়ের চার বছর পূর্ণ হলো। জানালেন, বিয়ে পর অনেকটাই বদলে গেছেন। কতটা সংসারী হয়ে উঠেছেন—এমন প্রশ্নে মিম বলেন, ‘শুরু থেকেই আমি সংসারী। সংসার করে যাচ্ছি।’ রান্না করেন? এমন প্রশ্নে হেসে মিম বলেন, ‘সংসার করতে হলে কি রান্না করতেই হবে! রান্না যে করি না, তা–ও না। উৎসবে হলে হাতে সময় থাকে, তখন রান্না করি। রান্না করলে বরং আমার স্বামী বলবে, কেন রান্না করতে হবে। সব মিলিয়ে আমার সংসার নিয়ে খুশি।’
নতুন বছরের ভাবনা‘শুরু থেকেই আমি একটু গোছানো। যে কারণে আমার কাছে যা বেস্ট মনে হয়, সেই সিদ্ধান্তগুলোই বছরের শুরুতে নিয়ে থাকি। যেকোনো কাজ আমি চিন্তাভাবনা করেই করি। এর মধ্যে এমন কিছু নেই, যেটা বারবার আমার পরিকল্পনায় থাকে। যেটা পরিকল্পনা করি, সেটা করি। তবে প্রতিবছর একটা প্ল্যানই ঘুরে ফিরে আসে—ভালো ভালো কাজ করা। আমি আশাবাদী, এ বছর বেশ কিছু ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দিতে পারব,’ বললেন মিম। এ বছর মিমের জন্য আলাদা। হাতে রয়েছে বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের চারটি সিনেমা ও ওয়েবের কাজ। এ বছর নিয়ে তাঁর প্রত্যাশাও তাই অনেক বেশি।