আন্তর্জাতিক

‘মিঞা মুসলিমদের’ আসামে নয়, বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দিতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত

January 30, 2026
4 months ago
By SAJ
‘মিঞা মুসলিমদের’ আসামে নয়, বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দিতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত

ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, এ রাজ্যে যখন ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)’ প্রক্রিয়া চলবে, তখন ৪ থেকে ৫ লাখ ‘মিঞা’ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হবে। গত মঙ্গলবার তাঁর এমন মন্তব্যে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

তিনসুকিয়া জেলার ডিগবয়তে একটি সরকারি অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হিমন্ত আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘মিঞা’ সম্প্রদায়কে কষ্টে রাখাই তাঁর কাজ। উল্লেখ্য, আসামে বাংলাভাষী মুসলমানদের বোঝাতে ‘মিঞা’ শব্দটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং তাঁদের প্রায়ই ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

ক্ষমতাসীন বিজেপি দলীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোট চুরি মানে হলো, আমরা কিছু মিঞা ভোট চুরি করার চেষ্টা করছি। আদর্শগতভাবে তাঁদের আসামে নয়, বাংলাদেশে ভোট দিতে দেওয়া উচিত।’

ভোটার তালিকার চলমান ‘বিশেষ সংশোধন (এসআর)’ প্রক্রিয়ার ‘দাবি ও আপত্তি’ পর্যায়ে হাজার হাজার বাংলাভাষী মুসলমানকে নোটিশ দেওয়া বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি যেন তাঁরা আসামে ভোট দিতে না পারেন।’

ভারতের নির্বাচন কমিশন দেশটির ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ পরিচালনা করছে। তবে এ ক্ষেত্রে আসামে সাধারণ হালনাগাদের মতো ‘বিশেষ সংশোধন’ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

বিরোধীরা তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে কী ভাবছেন, সেটি পাত্তা না দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই সংশোধন (এসআর) প্রাথমিক মাত্র। যখন আসামে এসআইআর শুরু হবে, তখন ৪ থেকে ৫ লাখ মিঞা ভোট বাদ দিতে হবে।’

হিমন্ত আরও বলেন, ‘কংগ্রেস আমাকে যত খুশি গালি দিক। আমার কাজ হলো, মিঞা মানুষকে কষ্টে রাখা।’ বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার আইনের কাঠামোর মধ্যেই এ সম্প্রদায়ের জন্য কিছু ‘উৎপাত’ (বিঘ্ন) সৃষ্টি করবে বলে আগে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিধায়ক এবং রাইজর দলের সভাপতি অখিল গগৈ বলেন, মিঞা জনগোষ্ঠীকে চাপে রাখার জন্য জনগণ তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করেনি।

কংগ্রেস নেতা আমান ওয়াদুদ বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আসামে সংবিধানকে পুরোপুরি অকার্যকর করে তুলেছেন।’

২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, আসামে ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ৫১ লাখ। এর মধ্যে ৪ লাখ ৭৮ হাজার মৃত ও ৫ লাখ ২৩ হাজার অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ৫৩ হাজার ৬১৯টি দ্বৈত এন্ট্রি বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৬১ লাখের বেশি পরিবারে ১০০ শতাংশ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর ওই বিতর্কিত মন্তব্য করার আগে গত রোববার কংগ্রেস, রাইজর দল, আসাম জাতীয় পরিষদ, সিপিআই এবং সিপিআই-এমসহ ছয়টি বিরোধী দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে তারা অভিযোগ করে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ব্যাপক আইনি লঙ্ঘন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং প্রকৃত ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে; যা স্বেচ্ছাচারী, বেআইনি ও অসাংবিধানিক।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত এর আগেও বাংলাদেশ ও মুসলিমদের নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন।