আন্তর্জাতিক

মৃত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করতে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

September 23, 2026
1 month ago
By SAJ
মৃত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করতে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

বাংলাদেশে এক অস্ট্রেলীয় নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করতে প্রায় ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) জানিয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে কোনো বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় এটিই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা।

গ্রেপ্তার আওলাদ হোসেন (৫১) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় নাগরিক। তিনি কুইন্সল্যান্ডের রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকার বাসিন্দা। গতকাল সোমবার গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনস এলাকার দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে পুলিশ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিহত ওই নারী আওলাদ হোসেনের স্ত্রী রেহেনা পারভিন। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের নথি থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়া এবং তদন্ত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে আসামি বাংলাদেশে প্রায় ৮০ লাখ টাকা পাঠান।

তদন্তের সূত্রপাত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে। অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা ওই নারী নিখোঁজ হলে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ বিষয়টি ফেডারেল পুলিশকে জানায়। এর পরদিনই বাংলাদেশে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুকে অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিদেশে কোনো অস্ট্রেলীয় নাগরিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের এখতিয়ার রয়েছে অস্ট্রেলীয় ফেডারেল পুলিশের। সেই ক্ষমতাবলে তারা নিজস্ব তদন্ত শুরু করে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশও পৃথক তদন্ত চালাচ্ছিল।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ সিডনি ও ব্রিসবেনের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে লেনদেনের ব্যাংকিং নথি জব্দ করে। পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই বছর ধরে বাংলাদেশে অর্থ পাঠিয়ে তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন আওলাদ হোসেন।

অস্ট্রেলিয়ার কমনওয়েলথ ফৌজদারি আইনে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

অস্ট্রেলীয় ফেডারেল পুলিশের কমান্ডার স্টিফেন জে বলেন, অস্ট্রেলিয়া কিংবা বিদেশে কোনো অপরাধের তদন্তপ্রক্রিয়া ঘুষ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের কাজে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, রেহেনা পারভিনের মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।