বাংলাদেশ

মুন্সিগঞ্জে খুনের ঘটনায় নিউইয়র্কে একজনের ১৫ বছরের সাজা

May 8, 2026
5 months ago
By SAJ
মুন্সিগঞ্জে খুনের ঘটনায় নিউইয়র্কে একজনের ১৫ বছরের সাজা

বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জে প্রায় পাঁচ বছর আগে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে তাঁর ভাতিজাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আদালত। তাঁরা দুজনই মার্কিন নাগরিক। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার বাসিন্দা ৫৪ বছর বয়সী গ্যানেট রোজারিওকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এর আগে অন্য দেশে (বাংলাদেশে) এক মার্কিন নাগরিককে হত্যার ঘটনায় আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেন তিনি।

আদালতের নথি ও জবানবন্দি অনুযায়ী, গ্যানেট রোজারিও বাংলাদেশে তাঁর চাচা মাইকেল রোজারিওকে শটগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। মুন্সিগঞ্জে পারিবারিক বসতভিটা নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। ২০২১ সালে বাংলাদেশে এসে তাঁরা দুজনই ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ১১ জুন সন্ধ্যায় গ্যানেট নিজেদের ঘরের বাইরে চাচার শোবার ঘরের জানালার কাছে সিগারেট খাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি ঘরের ভেতর থেকে চাচাকে তাঁকে নিয়ে গালমন্দ করতে শোনেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গ্যানেট ঘরের ভেতরে গিয়ে একটি শটগান নিয়ে আবার বাইরে আসেন। ‘তুই কাল আর সূর্য দেখবি না’—এ ধরনের কথা চিৎকার করে বলে গ্যানেট জানালা দিয়ে একটি গুলি ছোড়েন। গুলিটি মাইকেল রোজারিওর পেটে ও তলপেটে বিদ্ধ হয় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

হত্যাকাণ্ডের পর ২০২৩ সালের জুলাই মাসে গ্যানেট যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলে তাঁর বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিচার বিভাগের ক্রিমিনাল ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাটর্নি জেনারেল এ টাইসেন ডুভা এবং সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জে ক্লেটন এ রায় ঘোষণা করেন। মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিস এ মামলার তদন্ত করেছে।

ক্রিমিনাল ডিভিশনের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড স্পেশাল প্রসিকিউশনস সেকশনের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি চিফ ফ্রাঙ্ক রাঙ্গোসিস এবং সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের সহকারী অ্যাটর্নি ক্রিস্টি স্লাভিক মামলাটি পরিচালনা করেন।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে নিযুক্ত এফবিআইয়ের লিগ্যাল অ্যাটাশে এবং বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে। সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ।