বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

April 18, 2026
5 hours ago
By SAJ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে দুই বন্ধুর ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত দুজনের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার পর আজ শনিবার একাডেমিক কাউন্সিল জরুরি সভা করে আগামী সাত দিনের জন্য সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করার পাশাপাশি আজ সকাল আটটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা হলেন মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর। তাঁরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ পক্ষের কর্মী এবং হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ পক্ষের কর্মী। তাঁদের মধ্যে হামিদুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং মুয়াজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, নগরের বাঘমারা এলাকায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস। গতকাল রাতে মুয়াজ তাঁর বন্ধু হামিদুরের কক্ষে গিয়ে মোটরসাইকেলে তেল ভরা নিয়ে প্রথমে কথা–কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় হামিদুর ও তাঁর সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। এতে হামিদুরের পক্ষের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে আশ্রয় নেন। এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তাঁর পক্ষের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহত মুয়াজ ও হামিদুরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থল থেকে নাফিউল ইসলাম (বিডিএস-১৪ ব্যাচ) নামের এক শিক্ষার্থীকে গতকাল রাতে আটক করে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, আটক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। তিনি বলেন, দুই বন্ধুর মধ্যে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। মেডিকেল কলেজ ও ছাত্রাবাস এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, মোটরসাইকেলে তেল ভরার মতো ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাত দিনের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ছেড়ে গেছেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনজন অধ্যাপককে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।