বাংলাদেশ

নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, টাকার অভাবে আইসিইউতে নিতে পারেনি পরিবার

May 24, 2026
2 months ago
By SAJ
নোয়াখালীতে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু, টাকার অভাবে আইসিইউতে নিতে পারেনি পরিবার

নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির নাম মো. সামির (৭)। আজ রোববার ভোর পাঁচটার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত সামির জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চরকাটাখালী গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী আজ সকালে প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, শিশুটিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রয়োজন ছিল। এ কারণে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে আর্থিক সংকটের কারণে স্বজনেরা তাকে ঢাকায় নিতে পারেননি।

নিহত শিশুর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিকেল চারটার দিকে হামের উপসর্গ নিয়ে সামিরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দেখার পর আইসিইউ সাপোর্টের জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে শিশুটি মারা যায়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। হাসপাতালটিতে এপ্রিলের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৯৫০ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছে ৪০ শিশু।

রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালটিতে বেড, ওষুধ, চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফের সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের সার্ভিস ভবনকে হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপরও রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুদের অভিভাবকদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার প্রধান এই হাসপাতালে শিশুদের জন্য কোনো আইসিইউ–সুবিধা না থাকায় সংকটাপন্ন শিশুদের অনিশ্চয়তার মধ্যে ঢাকায় নিতে হয়।

জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ বেড থাকলেও শিশুদের জন্য আলাদা আইসিইউ বেডের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে হামের উপসর্গ নিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় আসা শিশুদের বাধ্য হয়ে ঢাকায় রেফার করতে হয়।