অর্থনীতি

অনলাইনে আবেদনের দুই ঘণ্টার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন

May 20, 2026
3 months ago
By SAJ
অনলাইনে আবেদনের দুই ঘণ্টার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন

ব্যক্তিগত প্রয়োজনে হঠাৎ অর্থের সংকট হলে অনেকেই বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে যান। আবার ব্যাংকঋণ নিতে গেলে দীর্ঘ কাগজপত্র, শাখায় যাওয়া–আসা ও সময়ক্ষেপণের ঝামেলা তো আছেই। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ও স্বল্পমেয়াদি ব্যক্তিগত ঋণসেবা হিসেবে এসেছে ঢাকা ব্যাংকের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ইঋণ’। যার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করে মাত্র দুই ঘণ্টায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন।

ঢাকা ব্যাংকের এই প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে বেতনভোগী ব্যক্তি, স্বল্প আয়ের মানুষ ও পেশাজীবীরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করেই সহজে ঋণের আবেদন করতে পারেন। ইঋণের মাধ্যমে একজন গ্রাহক ১ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের মেয়াদ তিন মাস অথবা ছয় মাস। অর্থাৎ গ্রাহককে মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

কারা আবেদন করতে পারবেন

বাংলাদেশে বসবাসকারী ২১ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক ইঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীর মাসিক আয় কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা হতে হবে। পাশাপাশি থাকতে হবে একটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব, বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর বা গুগল অ্যাকাউন্ট ও ঠিকানার প্রমাণপত্র। কোনো জামানত প্রয়োজন নেই। শুধু আপনার সঠিক নথিগুলো দেবেন, যাতে আপনার যোগ্যতা নির্ধারণ করা যায়।

যেসব কাগজপত্র লাগবে

ইঋণে আবেদন করতে মূলত চার ধরনের নথি জমা দিতে হবে—

১. জাতীয় পরিচয়পত্র।

২. সবশেষ বেতন স্লিপ বা আয়ের প্রমাণ।

৩. ব্যাংক হিসাবের সাম্প্রতিক স্টেটমেন্ট।

৪. ঠিকানার প্রমাণপত্র।

ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে পাসপোর্ট, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল, টিঅ্যান্ডটি ফোন বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্সের কপি দেওয়া যাবে। বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা আলাদা হলে অতিরিক্ত নথিও লাগতে পারে। এ ছাড়া আবেদনকারীকে নিজের ছবি আপলোড করতে হবে। সব নথি জেপিজি ফরম্যাটে ও স্পষ্টভাবে পাঠযোগ্য হতে হবে।

ব্যাংকের দাবি, প্রয়োজনীয় নথি ঠিকভাবে জমা দেওয়া হলে এক কর্মদিবসের মধ্যে, এমনকি দুই ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে ঋণের অর্থ পাঠানো হতে পারে। ব্যাংক খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডিজিটাল ঋণসেবা তরুণ চাকরিজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য দ্রুত অর্থ পাওয়ার একটি বিকল্প পথ তৈরি করছে। তবে ঋণ নেওয়ার আগে সুদের হার, সার্ভিস চার্জ ও পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

সেবাটি দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে জানান ব্যাংক কর্মকর্তারা। ঢাকা ব্যাংকের হেড অব রিটেইল এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইঋণে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার বার এ ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়া হয়েছে। স্বল্প আয়ের মানুষ এটা বেশি নিচ্ছেন। গার্মেন্টস কর্মী থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও শিক্ষকেরা এ ঋণ নিচ্ছেন।’ মাসে ১ হাজারের বেশি গ্রাহক এ সেবা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।