আন্তর্জাতিক

অ্যান্ড্রু ও ভার্জিনিয়ার আলোচিত সেই ছবি ‘আসল’, প্রমাণ পাওয়া গেল ই–মেইলে

February 5, 2026
2 months ago
By SAJ
অ্যান্ড্রু ও ভার্জিনিয়ার আলোচিত সেই ছবি ‘আসল’, প্রমাণ পাওয়া গেল ই–মেইলে

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর ও ভার্জিনিয়া জিউফ্রের বহুল আলোচিত সেই ছবি যে আসল, তার নতুন প্রমাণ পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সাবেক প্রেমিকা গিলেন ম্যাক্সওয়েলের পাঠানো একটি ই–মেইল থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবিতে অ্যান্ড্রুকে ভার্জিনিয়ার কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই কোনো ধরনের অপকর্মের কথা অস্বীকার করে আসছেন। এমনকি তিনি দাবি করেছিলেন যে ছবিটিতে কারসাজি করা হয়েছে এবং ভার্জিনিয়ার সঙ্গে তাঁর কখনো দেখাই হয়নি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথির সর্বশেষ অংশে থাকা একটি ই–মেইল বার্তায় (আংশিকভাবে গোপন করা) ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

২০১৫ সালে জেফরি এপস্টেইনের কাছে পাঠানো ওই বার্তার শিরোনাম ছিল ‘ড্রাফট স্টেটমেন্ট’। সেখানে জি ম্যাক্সওয়েল (আংশিকভাবে গোপন করা) নামের একজন লেখেন, ‘২০০১ সালে আমি লন্ডনে ছিলাম; যখন (নাম অস্পষ্ট) আমার কয়েকজন বন্ধুর (নামগুলো গোপন করা) সঙ্গে দেখা করেন; যাঁদের মধ্যে প্রিন্স অ্যান্ড্রুও ছিলেন। একটি ছবি তোলা হয়েছিল। আমার ধারণা, তিনি ছবিটি বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের দেখাতে চেয়েছিলেন।’

ভার্জিনিয়া জিউফ্রে ২০২৫ সালে মারা যান। তাঁর পরিবার বিবিসির ‘নিউজনাইট’ অনুষ্ঠানকে জানিয়েছে, ‘এই ই–মেইল প্রমাণ করে যে ভার্জিনিয়া সত্য বলেছিলেন। ভার্জিনিয়ার ভাই স্কাই রবার্টস বলেন, ‘এটি সত্যিই প্রমাণ করে, ভার্জিনিয়া মিথ্যা বলেননি। আমাদের বোনের জন্য আমরা গর্বিত।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) থেকে প্রকাশিত নথিতে থাকা এই ই–মেইলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ‘গিলেন ম্যাক্সওয়েল’ তাঁর বাড়িতে কোনো ‘অনভিপ্রেত’ ঘটনা সম্পর্কে জানতেন না। নথিতে ব্যক্তির নাম মুছে দেওয়া হলেও ঘটনার বিবরণ নির্দেশ করে, ওই ই–মেইলের প্রেরক ছিলেন ম্যাক্সওয়েল এবং এখানে ভার্জিনিয়ার কথাই বলা হচ্ছে।

এপস্টেইন ও ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকারীদের অন্যতম ভার্জিনিয়া জিউফ্রের দাবি ছিল, কিশোরী বয়সে তাঁর সঙ্গে প্রিন্স অ্যান্ড্রু তিনবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। অ্যান্ড্রু ২০২২ সালে ভার্জিনিয়ার সঙ্গে আদালতের বাইরে একটি রফায় পৌঁছান। তবে সেখানে তিনি দায় স্বীকার করেননি বা ক্ষমা চাননি।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিবিসি নিউজ মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

এর আগে ২০১১ সালে এপস্টেইনের পাঠানো অন্য একটি ই–মেইলেও ওই ছবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছিল। সেখানে এপস্টেইন লিখেছিলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি (ভার্জিনিয়া) আমার উড়োজাহাজে ছিলেন এবং অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তাঁর ছবি তোলা হয়েছিল।’

২০১৯ সালে নিউজনাইট অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাউন্টব্যাটেন–উইন্ডসর ভার্জিনিয়ার সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ছবিটি বা ছবির কিছু অংশ জাল হতে পারে।

সে সময় অ্যান্ড্রু বলেন, ‘ওই ছবি বিকৃত করা হয়েছে, নাকি হয়নি, তা কেউ প্রমাণ করতে পারবেন না। তবে আমার মনে পড়ে না যে কখনো এমন কোনো ছবি তোলা হয়েছিল।’

বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ওই সাক্ষাৎকারে অ্যান্ড্রু আরও দাবি করেছিলেন, ঘটনার সময় তিনি ম্যাক্সওয়েলের বাড়িতে ছিলেন না; বরং ওকিং এলাকায় একটি পিজার রেস্তোরাঁয় ছিলেন।

গতকাল বুধবার নিউজনাইটে কথা বলতে গিয়ে জিউফ্রের ভাবি আমান্ডা রবার্টস অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, তথাকথিত এপস্টেইন ফাইলস থেকে নথি প্রকাশ হওয়াটা ছিল একেবারে ‘ঝড়ের মতো অভিজ্ঞতা’।

আমান্ডা বলেন, ‘আমি আবেগাপ্লুত। কারণ, আমি চাইতাম, তিনি (জিউফ্রে) আজ বেঁচে থাকুক এবং এ মুহূর্তটা দেখুক। তিনি এত দিন, এত কষ্ট করে লড়াই করেছেন। তিনি ছিলেন ভীষণ শক্ত মনের মানুষ।’

আমান্ডা আরও বলেন, ‘আমরা তাঁর অর্জন নিয়ে গর্বিত; কিন্তু এ মুহূর্তে আমরা তাঁকে ভীষণভাবে মিস করছি। এ সময়টা তাঁর উদ্‌যাপন করার কথা ছিল।’

এর আগে নিউজনাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে পরিবারটি বলেছিল, তারা ‘আশা করছে যে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হবে।’

এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বিতর্ক এখনো সাবেক এ রাজপরিবারের সদস্যের পিছু ছাড়ছে না।

গত বছরের অক্টোবর মাসে অ্যান্ড্রুকে তাঁর রাজকীয় উপাধি থেকে বঞ্চিত করা হয় এবং রাজকীয় বাসভবন ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গত শুক্রবার প্রকাশ করা এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট নতুন নথিতে অ্যান্ড্রুর আরও কিছু আপত্তিকর ছবি এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি একটি বার্তায় তিনি এপস্টেইনকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

উল্লেখ্য, একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা যান এপস্টেইন। আর ম্যাক্সওয়েল যৌনপণ্য পাচারের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।