বাংলাদেশ

পল্লবীতে শিক্ষক ফিরোজা হত্যাকাণ্ড নিয়ে অন্ধকারে পুলিশ

April 18, 2026
6 months ago
By SAJ
পল্লবীতে শিক্ষক ফিরোজা হত্যাকাণ্ড নিয়ে অন্ধকারে পুলিশ

রাজধানীর পল্লবীতে স্কুলশিক্ষক ফিরোজা খানম ওরফে জোসনা (৬৮) হত্যার কারণ এবং এর সঙ্গে কে বা কারা জড়িত, সে সম্পর্কে কিছুই জানতে পারেনি পুলিশ। এ হত্যারহস্য উদ্‌ঘাটনে পল্লবী থানা-পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও র‍্যাব কাজ করছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ‘ডি’ ব্লকের ৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির দোতলার একটি কক্ষ থেকে ফিরোজার মাথা থেঁতলানো রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মাথায় হাতুড়ি পেটা করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পল্লবী থানার পুলিশ জানায়, গতকাল ফিরোজার লাশ উদ্ধারের পর ওই ঘটনায় হত্যা মামলা করেন তাঁর ভাই ফিরোজ আলম। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

আজ শনিবার পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে আলমগীর জাহান প্রথম আলোকে বলেন, কারা, কেন ফিরোজাকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছয়তলা ওই বাড়িতে কোনো ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ছিল না। বাড়িতে নিরাপত্তাকর্মী থাকলেও আগন্তুকদের তথ্য নিবন্ধন করা হতো না। এ কারণে হত্যাকারী শনাক্তে পুলিশের বেগ পেতে হচ্ছে। এখন গুপ্তচর (সোর্স) লাগিয়ে হত্যাকাণ্ড রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ কর্মকর্তা আলমগীর বলেন, ফিরোজার ২৫ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর ফিরোজা আর বিয়ে করেননি। তিনি এক বছর আগে এই ভবনের এক কক্ষের ভাড়া বাসায় একা ওঠেন। ফিরোজা স্থানীয় হলি ক্রিসেন্ট আইডিয়াল স্কুল নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকতার চাকরি করতেন। তিন মাস আগে ওই স্কুলের চাকরি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর তিনি বাসাবাড়িতে টিউশনি করে চলতেন। তাঁর বাড়ি কুড়িগ্রামের মুন্সিপাড়া থানার কৃষ্ণপুরে।

মামলার তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফিরোজা হত্যাকাণ্ডে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে।

পুলিশের পল্লবী অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) মো. জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ফিরোজা প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হতেন। মাঝেমধ্যে দুপুরে ফিরলেও বেশির ভাগ সময় রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরতেন। গতকাল বৃহস্পতিবারও সকালে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে রাত ১০টায় ফেরেন। তবে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা বেজে গেলেও বাসা থেকে বের না হওয়ায় তাঁর খোঁজ নিতে দোতলায় যান বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী। এরপর ফিরোজার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

জাহিদ হোসেন বলেন, ৩৫ বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফিরোজার কোনো যোগাযোগ ছিল না। লাশের পাশ থেকে একটি বাটন মুঠোফোন ঘেঁটে ফিরোজার ভাই ফিরোজ আলমের নম্বর পায় পুলিশ। পরে ওই নম্বরে ফোন দিলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্তু ফিরোজ আলম হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ফিরোজার বাসা থেকে কোনো কিছু  খোয়া গেছে কি না, তা জানানোর মতোও ফিরোজার কেউ নেই। পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা কিছু টের পাননি কিংবা হত্যা নিয়ে কিছু জানেন না বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের জানান।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডে ছয়তলা ভবনটির কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। কারা, কেন বৃদ্ধা ফিরোজাকে হত্যা করল, তা বের করতে পল্লবী থানা-পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির ডিবি, পিবিআই ও র‍্যাব কাজ করছে।

নিহত নারীর ভাই ফিরোজ আলম বলেন, ‘ফিরোজার সঙ্গে পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের তেমন যোগাযোগ ছিল না। তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বাসায় টিউশনি করে নিজের খরচ নিজেই চালাতেন। তাঁর কোনো শত্রু ছিল কি না, তা আমাদের জানা নেই। কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে, সে বিষয়েও কোনো ধারণা করতে পারছি না। আমরা আশা করছি, পুলিশ দ্রুত সত্যিটা খুঁজে বের করবে।’