বাংলাদেশ

প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

August 7, 2026
2 weeks ago
By SAJ
প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. ফরিদ (৪৫)। তিনি প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফ্লাই সি এয়ারের মালিক। এর আগে গত শনিবার প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে অক্ষর সৌভিক রায় (৩১) নামে এক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।

র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম ও আইন) আ ম ফারুক গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে র‍্যাব-১৫ ও র‍্যাব-৪-এর যৌথ দল মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগ এলাকার আজাদ মিনি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে ফরিদকে গ্রেপ্তার করে। তিনি সেখানে আত্মগোপন করে ছিলেন। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ে আকাশে ওড়ার মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে যান অক্ষর সৌভিক রায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অক্ষর সৌভিক খুলনা সিটি করপোরেশনের বানিয়াখামার এলাকার স্যার ইকবাল সড়কের বাসিন্দা শেখর রায়ের ছেলে। প্যারাসেইলিংয়ে করতে খুলনা থেকে ৯ জনের একটি দল দরিয়ানগর সৈকতে গিয়েছিল। জনপ্রতি দুই হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে কয়েকজন আকাশে ওড়ার প্রস্তুতি নেন। প্রথম দফায় সৌভিক প্যারাসেইলিংয়ে উঠলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক উদ্ধারের ব্যবস্থা না থাকায় সৌভিককে উদ্ধারে বিলম্ব হয়। এ ঘটনায় সৌভিকের বোন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ফরিদকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই ফরিদ আত্মগোপনে ছিলেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর, হিমছড়ি ও প্যাঁচারদিয়া সৈকতে পর্যটকদের প্যারাসেইলিং করানোর তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো ফ্লাই সি এয়ার, ফানফেস্ট প্যারাসেইলিং ও স্যাটেলাইট ভিশন প্যারাসেইলিং। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান ১০ বছরের বেশি সময় ধরে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে আসছিল। তবে ২০২৪ সালের জুনে অনুমোদনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তা আর হালনাগাদ করা হয়নি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদ দীর্ঘদিন ধরে দরিয়ানগর সৈকতে ফ্লাই সি এয়ার প্যারাসেইলিং পরিচালনা করে আসছেন। নোয়াখালীর বাসিন্দা ফরিদ কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাহারছড়ায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। গত ১০ বছরে ফরিদের পরিচালিত প্যারাসেইলিং থেকে বেশ কয়েকজন পর্যটক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। কেউ আকাশ থেকে ছিটকে পানিতে পড়েছেন, কেউ রশি ছিঁড়ে বালুচরে পড়ে বা ঝাউগাছের মাথায় আটকে গুরুতর আহত হয়েছেন। এবারই প্রথম তাঁর প্রতিষ্ঠানে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে একজন পর্যটকের মৃত্যু হলো।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টুয়াক) উপদেষ্টা মফিজুর রহমান বলেন, গত ১০ বছরে ওই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে, ঝাউবাগানের গাছের ডগায় আটকে অথবা বালুচরে পড়ে অন্তত ১৯ জন পর্যটক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ছয়জন পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।

মফিজুর রহমান বলেন, কোনো রকম প্রশাসনিক তদারকি ছাড়াই অনভিজ্ঞ লোকজন দিয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা হচ্ছিল। প্রশাসন থেকে বারবার প্যারাসেইলিং বন্ধ করা হয়। তারপরও টাকার লোভে কতিপয় ব্যক্তি প্যারাসেইলিং করে পর্যটকদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।