খেলা

রবার্তো কার্লোস কি সত্যিই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন, আসল ঘটনা কী

August 20, 2026
4 hours ago
By SAJ
রবার্তো কার্লোস কি সত্যিই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন, আসল ঘটনা কী

গুঞ্জনটা শুরু হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস নাকি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আসলে সত্যিটা কী? দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন রবার্তো কার্লোস নিজেই। এ খবরকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে জানিয়ে দিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই লেফটব্যাক।

বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে দেখা করেছেন কার্লোস। পাশাপাশি অনলাইনে এমন কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একজন কাজির উপস্থিতিতে ইসলামিক রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে এবং সেখানে রবার্তো কার্লোসও আছেন। এতেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলামিক রীতিতে একজনকে বিয়ে করেছেন।

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই লেফটব্যাক সম্প্রতি মরক্কোর ব্যবসায়ী সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিগুলো দেখে মনে হতেই পারে, স্ত্রীর ধর্ম অনুসরণ করে তিনিও বুঝি মুসলিম হয়েছেন। তবে গুঞ্জনের জট ছাড়াতে সম্প্রতি সৌদি আরবের দৈনিক পত্রিকা ওকাজের সঙ্গে কথা বলেছেন রবার্তো কার্লোস।

জেদ্দাভিত্তিক ওকাজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্লোস বলেছেন, ‘ইসলাম ধর্মের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখাটা সত্যিই চমৎকার এক অভিজ্ঞতা। তবে আমার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের যে গুঞ্জন চারপাশে ঘুরছে, তা সত্য নয়।’

২০০২ বিশ্বকাপজয়ী এই লেফটব্যাক জানান, পারিবারিক ও সামাজিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানাতেই একাধিক রীতিতে সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে তাঁর বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তিনি বলেছেন, ‘আমার পরিবারের সদস্যরা ক্যাথলিক। তাদের বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে যেমন আয়োজন ছিল, তেমনই আমার মরোক্কান স্ত্রী ও তাঁর মুসলিম বন্ধুদের ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা মাথায় রেখে সেই ধর্মীয় রীতিও রাখা হয়েছিল।’

মূলত স্ত্রীর ধর্মীয় অনুভূতি ও বন্ধুদের সম্মানে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানের কারণেই অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। কার্লোস স্পষ্ট করেছেন, স্ত্রীর ধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অর্থ এটা নয় যে তিনি নিজে ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

সাক্ষাৎকারে রবার্তো কার্লোস কীভাবে সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে প্রথম দেখা হয়েছিল, সে গল্পও শুনিয়েছেন। ফুটবল–সম্পর্কিত এক ব্যবসায়িক বৈঠকে তাঁদের প্রথম পরিচয় হয়। কার্লোস জানান, সোহাইলা একজন অত্যন্ত সফল নারী ব্যবসায়ী। দুই বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক। এ দুই বছরে ব্যক্তিগত ও পেশাগত—উভয় দিক থেকেই তাঁদের বোঝাপড়া অনেক বেড়েছে।মরক্কো ও ব্রাজিলে এ বিয়ে নিয়ে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। একদিকে সোহাইলার মরোক্কান পরিচিতি, অন্যদিকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ কার্লোসের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি—সব মিলিয়ে তাঁদের এ বিয়ে বিশ্বজুড়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে এটি ৫৩ বছর বয়সী কার্লোসের তৃতীয় বিয়ে। প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে ২০০৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তাঁর তিন সন্তান। এরপর ২০০৯ সালের জুনে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়ানা লুকনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় সংসার করার পর ২০২৫ সালের শুরুতে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। এই সংসারে কার্লোসের ২টি কন্যাসন্তান রয়েছে।  সব মিলিয়ে ৭ জন নারীর গর্ভে কার্লোসের ১১ সন্তান। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাঁর মেয়ে জিওভানা এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেওয়ায় তিনি এরই মধ্যে নানাও হয়ে গেছেন।