বাংলাদেশ

র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা হয় মাইকে ঘোষণা দিয়ে

January 20, 2026
2 months ago
By SAJ
র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা হয় মাইকে ঘোষণা দিয়ে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে থাকা র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা হয় মাইকে ঘোষণা দিয়ে। হামলায় অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন অংশ নেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ সময় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নামের এক র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিন র‍্যাব সদস্য।

পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, র‍্যাবের দুটি মাইক্রোবাস (হাইয়েস) সলিমপুরে যাওয়ার পর লাঠিসোঁটা নিয়ে কিছু ব্যক্তি সেটিকে ধাওয়া দিচ্ছেন। একপর্যায়ে মাইক্রোবাস দুটির কাচ ভাঙচুর করেন তাঁরা। হামলার সময় ওই এলাকায় মাইকে ঘোষণা দেওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। ঘোষণায় এলাকার ফটক আটকানোর জন্য বলছিলেন এক ব্যক্তি।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে বসে আছেন আহত কয়েকজন র‍্যাব সদস্য। তাঁদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ডেজ। কক্ষের মেঝে রক্তে লাল হয়ে আছে। পুলিশ সদস্যরা আহত র‍্যাব সদস্যদের গাড়িতে তুলে দিয়ে আসছেন।

র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন গতকাল রাতে জানান, সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ৪৩ জন র‌্যাব সদস্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযানে গিয়েছিলেন। এলাকাটিতে র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ দুষ্কৃতকারী র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াসহ র‍্যাবের চারজন সদস্য গুরুতর আহত হন। তাঁদের পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আহত তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ হামলার ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ডে এটির অবস্থান হলেও এটি অনেকটা নগরের ভেতরেই। এর পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ থানা।

জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় কয়েক দশক ধরে এটি হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনীতির পটপরিবর্তনের পর এ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, খুনাখুনির ঘটনা ঘটে চলছে। সম্প্রতি এলাকায় দখল-নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, গোলাগুলি হয়। এতে একজন নিহত হন। পরদিন সেখানে প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারধরের শিকার হন দুই সাংবাদিক।

চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে জঙ্গল সলিমপুরে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট–বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে ভূমিদস্যুরা। এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এই সন্ত্রাসীরা। এলাকায় বাসিন্দাদের প্রবেশের জন্য রয়েছে পরিচয়পত্র। বাসিন্দা ছাড়া বাইরের কেউ এলাকায় ঢুকতে পারেন না। এমনকি পুলিশ, জেলা প্রশাসনের লোকজনও এলাকাটিতে প্রবেশ করতে গিয়ে অনেকবার হামলার শিকার হয়েছেন।

২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল বড়ইতলা ২ নম্বর সমাজ এলাকায় পাহাড় থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শেষে ফেরার পথে হামলায় জেলা প্রশাসনের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ওপর ককটেল, ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশও গুলি ছোড়ে।

এর আগের বছর ২০২২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি র‌্যাবের সঙ্গে জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের গুলির ঘটনা ঘটেছিল। একই বছরের ২ আগস্ট অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে বাধা দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের লোকজনকে। ২০২২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে যায় প্রশাসন। সেই সময় আলীনগরের সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা করে।