বাংলাদেশ

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

July 29, 2026
2 months ago
By SAJ
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় ৬টার দিকে গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  

শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা ছিল। সে কারণেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’  

এদিকে, আজ বুধবার সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে এই মামলায় আত্মসমর্পণ করার কথা জানান তিনি। হাজিরা শেষে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তিনি আত্মসমপর্ণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার আগে তাঁকে গ্রেপ্তার না করা হলে আগামী সপ্তাহের রবি বা সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন। 

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকী জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্টে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় তাঁকে আসামি করে পুলিশ। কয়েক মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। তবে মামলাটি এখনো চলছে এবং তাঁকে হাজিরা দিতে হচ্ছে আদালতে।

আজ সেই মামলায় হাজিরা শেষে লতিফ সিদ্দিকী বলেছিলেন, ‘আজ সকালে আমাকে জানানো হয়েছে, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমি জানি, আজ যদি আদালতে না আসতাম, তাহলে মনে করা হতো আমি আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না, সব সময় আত্মপ্রকাশ করি। সে কারণেই আজ আদালতে এসেছি।’

শাপলা চত্বরের ঘটনার বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তখন মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু শাপলা চত্বরের ঘটনা বা সে সময়কার কোনো বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে মন্ত্রী করা হয় তাঁকে। হজ নিয়ে বিতর্কিত এক মন্তব্যের জেরে ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল ও বহিষ্কৃত হন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য হন তিনি। ওই বছর ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদের অবসান ঘটে।