বাংলাদেশ

সাফারি পার্কে চুরি হওয়া ২ লেমুর ভারতে, ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় জটিলতা

September 9, 2026
1 month ago
By SAJ
সাফারি পার্কে চুরি হওয়া ২ লেমুর ভারতে, ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় জটিলতা

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর ভারতের একটি পার্কে বিক্রি করা হয়েছে—সিআইডির তদন্তে এমন তথ্য পাওয়ার পর প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ, চুরি হওয়া লেমুর দুটির কোনো ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করেনি সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া লেমুর দুটি ভারতের বানতারা পার্কে ৪৮ লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয়েছে। এখন বানতারা কর্তৃপক্ষ প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কাছে ডিএনএ প্রোফাইল চেয়েছে। কিন্তু সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে লেমুর দুটির ডিএনএ প্রোফাইল না থাকায় সেগুলো যে বাংলাদেশ থেকে চুরি হয়েছে, সেটা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের ফরেনসিক ল্যাব আছে। ফলে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা কঠিন কোনো কাজ নয়। কিন্তু এর প্রয়োজনীয়তা হয়তো আগে এভাবে অনুভূত হয়নি। বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও ছিল না। তিনি ডিএফওকে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা তিনটি লেমুরের মধ্যে দুটি ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জব্দ করা হয়েছিল। শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ ও ঢাকা কাস্টমস হাউস চোরাচালানের সময় প্রাণীগুলো জব্দ করে। পরে বন বিভাগের নির্দেশে সেগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। সাফারি পার্কে আনার পর লেমুরগুলো থেকে ছানাও জন্ম নেয়। ফলে পার্কে লেমুরের সংখ্যা বাড়ে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি লেমুর মারা যায়। এরপর গত বছরের নভেম্বর মাসে পার্ক থেকে দুটি লেমুর চুরি হয়। এ ঘটনায় মামলা করা হয়। মামলায় মো. মঞ্জু মিয়াসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে সিআইডি।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, চুরি হওয়া লেমুর দুটি ভারতে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। প্রাণী দুটির অবস্থান বানতারা পার্কে শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সেগুলো চুরি যাওয়া লেমুর কি না, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার কর্তৃপক্ষ ডিএনএ প্রোফাইল চাওয়ায় বিপত্তি দেখা দিয়েছে।

বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্য প্রাণী চোরাচালান ও পাচারের ঘটনা শনাক্ত এবং পাচার হওয়া প্রাণী দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রোফাইল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে একই প্রজাতির অনেক প্রাণী থাকলে কোন নির্দিষ্ট প্রাণী কোথা থেকে গেছে, তা শনাক্তে ডিএনএ প্রোফাইল কার্যকর।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সব প্রাণীর না হলেও যেগুলোর মূল্য বেশি, সেগুলোর অন্তত ডিএনএ প্রোফাইলিং করলে ভালো হতো। সাফারি পার্কের প্রাণীগুলোর মধ্যে লেমুর মূল্যবান প্রাণী। এদের ডিএনএন প্রোফাইল থাকলে আজ সহজেই ক্লেইমটি এস্টাবলিশ করা যেত।’