বাংলাদেশ

সড়কে কলাগাছ ফেলে গাড়ি আটকে ছুরি হাতে বক্তব্য দিচ্ছিলেন যুবক, অতঃপর

August 22, 2026
2 months ago
By SAJ
সড়কে কলাগাছ ফেলে গাড়ি আটকে ছুরি হাতে বক্তব্য দিচ্ছিলেন যুবক, অতঃপর

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সড়কে কলাগাছ ফেলে এবং হাতে বড় ছুরি নিয়ে যানবাহনে বাধা সৃষ্টি করেছেন এক যুবক। এতে ত্রিশাল-নান্দাইল সড়কে প্রায় দেড় ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাঁকে আটক করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

আজ শনিবার সকালে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের নাওরী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই যুবকের নাম রমজান আলী (৩০)। তিনি মগটুলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য কলিম উদ্দিনের ছেলে। রমজান মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেছেন পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ছয়টার দিকে রমজান আলী ধারালো ছুরি হাতে নিয়ে নাওরী এলাকায় সড়কের ওপর কলাগাছ কেটে ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে যানবাহন আটকা পড়ে। ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল আজম বলেন, ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা করাচ্ছে। পাবনা মানসিক হাসপাতালেও তাঁকে কিছুদিন রাখা হয়েছিল। আজ সকালে হঠাৎ করে ছুরি নিয়ে সড়কে অবস্থান নেয়। ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাঁকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আজ সকালে মেয়েকে নিয়ে কিশোরগঞ্জে যাচ্ছিলেন ময়মনসিংহ সদরের বয়রা ছালাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিলকিস আক্তার। তিনিও এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বিলকিস লেখেন, ‘আজ ভোরে মেয়েকে কিশোরগঞ্জ নিয়ে যাওয়ার পথে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ব্যক্তি বড় তলোয়ার হাতে পাগলামি করে বালিপাড়া-নান্দাইল প্রধান রাস্তায় (ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নাওরী এলাকায়) শত শত গাড়ি আটকে রাখে। পরে ওনার পরিবার ও এলাকাবাসীর সহায়তায় সবাই আবার নিজ গন্তব্যে ছুটে চলে। এই সময়টায় পাগলের তাড়া খেয়ে একবার বাম পাশে আরেক বার ডান পাশে সবার দৌড়াদৌড়ি আর ওনার রাজনৈতিক বক্তব্য বিপদের মধ্যেও উপভোগ্য ছিল।’

মুঠোফোনে বিলকিস আক্তার বলেন, ‘পাগল ব্যক্তিটি চিৎকার করে বলছিল, নতুন ধর্মমন্ত্রী তার পছন্দ হয়নি। সে কারণে সড়কের দুই দিকে কলাগাছ কেটে ফেলে রাস্তা আটকে দিয়েছিল। পাঞ্জাবি পরা লোক দেখলেই ধাওয়া করছিল। আমি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাই। একপর্যায়ে এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন লোকটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে আমরা নিরাপদে গন্তব্যে যেতে পারি।’

যুবক রমজান আলীর বাবা মগটুলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কলিম উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে মগটুলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শিহাব উদ্দিন আকন্দ বলেন, ‘ছেলেটি প্রায় দেড় বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। পরিবার তাঁকে চিকিৎসাও করাচ্ছে। আজ সকালে হঠাৎ ছুরি নিয়ে রাস্তায় মানুষ চলাচলে বাধা দেওয়া শুরু করেছিল। এখন তাকে আবার চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে।’