আন্তর্জাতিক

সুইজারল্যান্ডে বারে ভয়াবহ আগুনে ৪০ জনের মৃত্যুর কারণ কি শ্যাম্পেনের আতশবাতি

January 3, 2026
3 months ago
By SAJ
সুইজারল্যান্ডে বারে ভয়াবহ আগুনে ৪০ জনের মৃত্যুর কারণ কি শ্যাম্পেনের আতশবাতি

সুইজারল্যান্ডের একটি স্কি রিসোর্টের বারে খ্রিষ্টীয় নববর্ষের প্রথম প্রহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু ও আরও ১১৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির কর্তৃপক্ষ তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে। শ্যাম্পেনের বোতলে লাগানো আতশবাতি (স্পার্কলার্স) ছাদের খুব কাছে চলে যাওয়ায় এ আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ভালিয়াস অঞ্চলের অ্যাটর্নি জেনারেল বিয়াত্রিস পিলুদ জানান, আগুনের উৎস নিয়ে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, শ্যাম্পেনের বোতলে থাকা জ্বলন্ত মোমবাতি বা আতশবাতি ছাদের খুব কাছে চলে গিয়েছিল। সেখান থেকেই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএম টিভিকে ঘটনাস্থলে থাকা দুজন নারী বলেছেন, আগুন লাগার সময় তাঁরা ওই পানশালার ভূগর্ভস্থ অংশে ছিলেন। মোমবাতিভর্তি একটি বোতল (শ্যাম্পেনের) কাঠের ছাদের কাছাকাছি ধরার পর ছাদে আগুন লেগে যায়। তারপর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুজন সিঁড়ি দিয়ে উঠে ভবনের বাইরে বেরিয়ে যান। এরপর আগুন নিচের তলাতেও ছড়িয়ে পড়ে।

তবে আতশবাজি থেকে আগুন লেগেছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডে ইতালির রাষ্ট্রদূত জিয়ান লোরেনজো করনানডো। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, পানশালার ভেতরেই একজন আতশবাজি জ্বালান। ওই আতশবাজি থেকে ছাদে আগুন লাগে।

তদন্তে বারের নির্মাণ উপকরণ, অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ও ধারণক্ষমতার বেশি মানুষ সেখানে ছিল কি না, সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পিলুদ বলেন, ‘তদন্তে যদি কারও অবহেলা প্রমাণিত হয় এবং তাঁরা বেঁচে থাকেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

বারটির একজন মালিকের ভাষ্যমতে, প্রতিষ্ঠানটি গত ১০ বছরে তিনবার পরিদর্শন করা হয়েছিল এবং সবকিছু বিধি অনুযায়ী চলছিল।

অগ্নিকাণ্ডে মারা যাওয়া ৪০ জনের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজ এখনো চলছে। পুলিশ কমান্ডার ফ্রেদেরিক গিসলার বলেন, ‘এটাই আমাদের অগ্রাধিকার।’

গিসলার জানান, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে ৭১ জন সুইজারল্যান্ডের নাগরিক। অন্যদের মধ্যে ফ্রান্সের ১৪ জন, ইতালির ১১ ও সার্বিয়ার ৪ জন নাগরিক রয়েছেন।

আহত ব্যক্তিদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভালিয়াস অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ম্যাথিয়াস রেনার্ড জানান, গুরুতর দগ্ধ প্রায় ৫০ জনকে চিকিৎসার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন উন্নত বার্ন সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী ফরাসি ফুটবলার তাহিরিস দস সান্তোসও রয়েছেন। তাঁর ক্লাবের কর্তৃপক্ষ বলেছে, সান্তোসকে চিকিৎসার জন্য উড়োজাহাজে করে জার্মানি নেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে এখনো কয়েকজন নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ১৬ বছর বয়সী ইতালীয় কিশোর আচিল বারোসি অন্যতম। নববর্ষের দিন দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জ্যাকেট ও ফোন বের করে আনতে বারে ঢুকেছিল সে।

এই কিশোরের চাচি ফ্রান্সেসকা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা জানি না ও বেঁচে আছে কি না। ও খুব ভালো ছবি আঁকত।’

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা গতকাল সন্ধ্যায়ও দুর্ঘটনাস্থলের বাইরে উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন।

এদিকে আগুন লাগার সময় বারের ভেতরে ঠিক কতজন ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এর ধারণক্ষমতা ছিল ৩০০ জনের। ৯ জানুয়ারি ক্রানস-মন্টানায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত ব্যক্তিদের স্মরণে ‘জাতীয় শোক’ পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।