বাংলাদেশ

তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

August 4, 2026
2 weeks ago
By SAJ
তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেলেন সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান ওরফে তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি বেরিয়ে আসেন।

গত ২৫ এপ্রিল থেকে হাফিজুর রহমান (৫২) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন বা তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২২ এপ্রিল বিকেলে কুমিল্লা আদালতে হাজির করার আগে ওই দিন সকালে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

ওই হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমান উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে আজ বিকেলে জামিননামা কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়।

এ সম্পর্কে  কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলা সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, ‘উচ্চ আদালতের জামিনের আদেশ সরাসরি আমাদের কাছে পৌঁছায় না। সেটি কুমিল্লার সিজিএম (চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) আদালত থেকে পাঠানো হয় আমাদের কাছে। বিকেলে সিজিএম আদালত থেকে হাফিজুর রহমানের উচ্চ আদালত থেকে পাওয়া জামিননামা আমরা হাতে পেয়েছি। পরে সেটি যাচাই-বাছাই করে দেখে সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা হাফিজুর রহমানের উচ্চ আদালতে জামিন হয়েছে বলে জেনেছি। তবে এই সংক্রান্ত কোনো আদেশের কপি আমরা এখনো হাতে পাইনি। আমরা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। ঘটনায় সন্দেহভাজন সকলকে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

গত ৬ এপ্রিল কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হকের আদালতে হাজির হন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ সময় তিনি মামলার অগ্রগতি জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনের ডিএনএ নমুনা মেলানোর আবেদন করেন। আদালত তাঁর আবেদনে সম্মতি দেন। ওই তিনজনের একজন হলেন হাফিজুর রহমান। অন্য দুজন হলেন ঘটনার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদ ও সৈনিক শাহীন আলম। তাঁরাও বর্তমানে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে আছেন বলে জানা গেছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। পরদিন তাঁর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।