তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ
সেরাভেলের সান মারিনো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উৎসবের আমেজ। দূর পরবাসের ব্যস্ত জীবন এক পাশে ঠেলে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি আজ হাজির হয়েছিলেন ইতালির ভেতরে থাকা ছোট্ট এই দেশটিতে। দেখে মনে হচ্ছিল এ যেন ঢাকার চেনা কোনো মাঠ!
প্রবাসী বাঙালিদের এই বাঁধভাঙা উল্লাস আর ভালোবাসার দিনে ইউরোপ জয়ের গল্প লিখেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। তপু বর্মণের জোড়া গোলে ফিফা প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে ২–১ গোলে হারিয়েছে হামজা–জামালদের বাংলাদেশ। এটি ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়।
এর আগে ২০০১ সালে সাহারা কাপে যুগোস্লাভিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ, তবে সেই দুটি ম্যাচেই হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। ফলে সান মারিনোর বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল নিজেদের নতুন করে চেনানোর এক বড় মঞ্চ। নিজেকে চেনানোর চ্যালেঞ্জ ছিল টমাস ডুলিরও।
বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ কালই প্রথম ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন। প্রথম ম্যাচে তিনি দল সাজিয়েছেন ৪–৩–৩ ফরমেশনে। যার মধ্যে বড় পরিবর্তন ছিল মাঝমাঠে। কানাডাপ্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোমকে শুরুর একাদশে না রেখে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও সোহেল রানাকে খেলান হামজা চৌধুরীর সঙ্গী হিসেবে।
ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট অবশ্য বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। স্বাগতিকদের কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গুছিয়ে উঠে সান মারিনোর রক্ষণভাগে চাপ বাড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ। যার ফল মেলে দ্রুতই, ম্যাচের ১৯ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে শেখ মোরছালিনের বাড়ানো লম্বা ক্রসে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান তপু বর্মণ।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সান মারিনো। স্বাগতিকদের সেই মরিয়া প্রচেষ্টা সফল হয় ৩১ মিনিটে। দারুণ এক গতিময় আক্রমণ থেকে সমতা ফেরায় তারা। সান মারিনোর ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ফিলিপ্পো বেরার্ডির পাস থেকে চমৎকার গোলটি করেন নিকোলাস জিয়াকোপেটি। বাংলাদেশের গোলকিপার মিতুল মারমা ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে স্পর্শ করলেও জালে যাওয়া থামাতে পারেননি।
ম্যাচে সমতা আসার ঠিক ছয় মিনিট পরই আবারও লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে একদম একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি সাদ উদ্দিন।
দ্বিতীয়ার্ধে দলের শক্তি ও কৌশল পরীক্ষা করতে একাদশে ছয়টি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। রক্ষণভাগের ইসা ফয়সালকে উঠিয়ে নামানো হয় জায়ান আহমেদকে, মাঝমাঠে জামালের বদলে নামেন শমিত সোম, মোরছালিনের জায়গায় মাঠে নামেন সোহেল রানা জুনিয়র। ম্যাচের ৬০ মিনিটে বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফাহামিদুল ইসলাম এবং ৭৫ মিনিটে কাজেম শাহকেও খেলার সুযোগ দেন ডুলি। তাতে বাংলাদেশের আক্রমণেও গতি ফেরে।
ম্যাচের শেষ দিকে, ঠিক ৮৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। হামজার নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে গোলমুখে শট নেন বিশ্বনাথ ঘোষ। আর সেই শটে মাথা এগিয়ে দিয়ে বল জালে পাঠান তপু। এটি জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অষ্টম গোল। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে হাসিমুখে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।